যেভাবে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন হাসিনা

রক্তাক্ত জুলাইয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি রাজপথে আন্দোলনরত ছাত্রজনতাকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন হাসিনা। এ সংক্রান্ত একাধিক ফোন কলের অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, জুলাই হত্যা মামলায় সোমবার বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। এতে হাসিনাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধেও দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।  

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বলছেন, জুলাই হত্যা মামলার বিচার চলাকালে ঘটনার অকাট্য প্রমাণ হিসাবে শেখ হাসিনার কয়েকটি কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে হাসিনার নিকটাকীয় সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে ফোনালাপের এসব রেকর্ড রাষ্ট্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) ডাটাবেইজ থেকে উদ্ধার করা হয়। 

এর মধ্যে ১৯ জুলাই অজ্ঞাতনামা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, র‌্যাব ও ডিজিএফআইকে বলা হয়েছে গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে হবে। যেখানেই দেখা যাবে সেখানেই প্রাণঘাতি অস্ত্র দিয়ে গুলি করতে হবে। ‘যেখানেই গ্যাদারিং (জমায়েত) দেখা যাবে, সেখানেই হেলিকপ্টার থেকে গুলি’ করতে হবে। এছাড়া আন্দোলনে যুক্ত ছাত্রজনতাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন তিনি। 

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে বলেন ‘আপনার নির্দেশনা লাগবে। তখন শেখ হাসিনা বলেন আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।’ আমি এখন থেকে লেথাল উইপন (প্রাণঘাতি অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আরেক কল রেকর্ডে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের পাকড়াও করা যায় না? জবাবে হাসিনা বলেন, ‘ওটা বলা আছে। ডিজিএফআই (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) এবং সবাইকে বলা হয়েছে যেখানে যে কয়টাকে পাবা ধরে ফেল।’ 

আরেক ফোনালাপে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশ থেকে গুলির নির্দেশনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘যেখানে গ্যাদারিং দেখবে সেখানে ওই ওপর থেকে… করবে। এখন ওপর থেকে করাচ্ছি। অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে। একেবারে ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি।’

LEAVE A REPLY