মানববিহীন যুদ্ধবিমানের সফল পরীক্ষা, ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তুরস্কের

সংগৃহীত ছবি

তুরস্ক মানববিহীন যুদ্ধবিমান কিজিলএলমার মাধ্যমে রাডার নির্দেশনায় আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক যুদ্ধবিমান ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।

সিনপের ফায়ারিং রেঞ্জের উপকূলে পরিচালিত এই পরীক্ষায় আসেলসানের মুরাদ এএসএ রাডারের মাধ্যমে শনাক্ত একটি জেটচালিত আকাশীয় লক্ষ্যবস্তুতে কিজিলএলমা ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ শ্রেণির আকাশ থেকে আকাশ গোকদোগান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। এটিকে মানববিহীন যুদ্ধ সক্ষমতায় একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাইকারের দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত কিজিলএলমা পাঁচটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে উড্ডয়ন করে।

উচ্চগতির জেটচালিত লক্ষ্যবস্তুটি কিজিলএলমায় স্থাপিত মুরাদ এএসএ রাডারের মাধ্যমে শনাক্ত ও অনুসরণ করা হয়। এরপর বিমানের ডানার নিচে সংযুক্ত গোকদোগান ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ড্রোনে আঘাত হানে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর তুলনায় অনেক কম রাডার সিগনেচার থাকার কারণে কিজিলএলমা অনেক দূর থেকেই শত্রু বিমান শনাক্ত করতে পারে।

এতে করে আকাশযুদ্ধে ‘দেখা না পড়ে দেখা, গুলি না খেয়ে আঘাত’—এই ধারণা বাস্তবে রূপ পাচ্ছে।

কিজিলএলমা এখন আকাশ থেকে ভূমি এবং আকাশ থেকে আকাশ—উভয় ধরনের অভিযানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ড্রোন রপ্তানিতে বিশ্বনেতা হিসেবে পরিচিত বাইকার ২০২৩ ও ২০২৪—উভয় বছরেই ১.৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করেছে, যার মধ্যে কম্পানিটির মোট আয়ের ৯০ শতাংশই এসেছে রপ্তানি থেকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছর ধরে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে তুরস্কের শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে প্রতিষ্ঠানটি।

LEAVE A REPLY