ফুরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে দেশটি স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হামলার হুঙ্কার ছেড়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক রুদ্ধদার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 

তবে কি যুদ্ধাস্ত্রে টান পড়েছে বলেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। সিএনএন। 

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে। 

এছাড়া, পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গেও এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এবং পরে তুলনা করলে দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে।

 চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন চুক্তি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। 

স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র থাকলেও, সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন চীন-এর মোকাবিলায় বর্তমান মজুত যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষণে উলে­খ করা হয়েছে। 

এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন। 

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 

বিশ্লেকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্র–জ বিমানঘাঁটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। 

তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে শর্তাবলি বা রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। 

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে না যাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। 

যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। 

LEAVE A REPLY