নাজিফা তুষি
‘রইদ’ নামের নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে নাজিফা তুষি। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে আসন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে খুব কঠিন কিছু নীরিক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন তুষি। এমনটাই জানালেন তিনি।
চরিত্রের প্রয়োজনে টানা ৬ মাস চুলে শ্যাম্পু, সাবান বা কোনো প্রসাধন ব্যবহার করেননি। এমনকি মেকআপ ছাড়া পুড়ে কালো হওয়ার জন্য গায়ে সরিষার তেল মেখে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকেছেন রোদে! এই চলচ্চিত্রে তাকে ছিন্নমূল নারীর চরিত্রে দেখা যাবে।
৬ মাস সাবান-শ্যাম্পু ছাড়া নিজের এই রূপান্তর প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘‘হাওয়ার চেয়ে ‘রইদ’ আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য আমি টানা ছয় মাস চুলে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা গায়ে সাবান ব্যবহার করিনি।
শুধু পানি দিয়ে গোসল করতাম। কারণ সাবান দিলে স্কিন পরিষ্কার হয়ে যায়, কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম আমার ত্বকের পোরসগুলো দেখা যাক, মুখে মেছতা বা দাগ ফুটে উঠুক।’’
চামড়া পোড়াতে সরিষার তেল মেকআপ দিয়ে কালো না হয়ে প্রাকৃতিকভাবে রোদে পোড়া ত্বক চেয়েছিলেন তুষি।
তিনি বলেন, ‘আমি গায়ে সরিষার তেল মেখে রোদে বসে থাকতাম।
কারণ তেল মেখে রোদে গেলে দ্রুত বার্ন হয়। আমি চেয়েছিলাম চামড়া পুড়ে কয়লা হয়ে যাক। মেকআপ দিয়ে কালো করলে বৃষ্টি বা ঘামে তা ধুয়ে আসল রং বেরিয়ে আসার ভয় ছিল। তাই আমি প্রাকৃতিকভাবেই ওই অঞ্চলের মানুষের মতো হতে চেয়েছিলাম, যাতে আমাকে শহুরে মনে না হয়।’
তুষি বলেন, ‘চরিত্রটির দাঁতে এক ধরনের টেক্সচার দরকার ছিল।
এজন্য আমি পান খেতাম। কিন্তু সাধারণ পানের চুনে কাজ হচ্ছিল না বলে আমি পাথরের চুন খাওয়া শুরু করি, যা ওই এলাকার মানুষ খায়। এতে আমার মুখ ও জিহ্বা পুড়ে যেত, কথা ভারী হয়ে আসত। কিন্তু চরিত্রের জন্য সেই কষ্টটুকুও করেছি। মানুষের ব্যবহৃত পুরনো কাপড় কিনে পরেছি।’
নামহীন চরিত্র ও লেবারের কাজ নিয়ে তুষি জানান, এই সিনেমায় তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন যার কোনো নাম নেই। চরিত্রটি ধারণ করতে তিনি শুটিং স্পটে লেবারদের সঙ্গে মাটি কেটেছেন, টিলায় উঠেছেন এবং গাছ লাগিয়েছেন। এমনকি চরিত্রের পোশাকের জন্য ‘টুকের বাজার’ থেকে মানুষের ব্যবহৃত পুরনো কাপড় কিনে পরেছেন।











































