পিতলের কলসি থেকে ৫ ধাতব মূর্তি উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পিতলের কলসি থেকে ৫টি সোনালি রঙের ধাতব মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের পল্লী খোরদ গ্রাম থেকে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মূর্তিগুলো উদ্ধার করা হয়।  এগুলো স্বর্ণের তৈরি নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, খোরদ গ্রামের বাসিন্দা চিনি উদ্দিনের ছেলে আবুল মুজাম নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশে ভিটার মাটি খুঁড়ে কয়েক দিন আগে একটি পুরোনো পিতলের কলসি খুঁজে পান।  বিষয়টি প্রকাশ না করে কলসিটি নিজ বাড়ির পুরোনো উঠোনে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।  

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির একটি দল আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় মুজামের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে পিতলের কলসিটি উদ্ধার করা হয়।  কলসের ভেতরে লাল কাপড়ে মোড়ানো ৫টি দেব-দেবীর ধাতব মূর্তি পাওয়া যায়।  যেগুলোর রং সোনালি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে মুহূর্তেই ‘স্বর্ণের গুপ্তধন’ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। 

ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।  পরে মূর্তিগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হলে স্বর্ণের অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কতৃপক্ষ। 

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার হওয়া ৫টি মূর্তি প্রাথমিক পরীক্ষায় স্বর্ণের তৈরি বলে প্রমাণিত হয়নি।  মূর্তিগুলোতে আনুমানিক ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।  সোনালি রঙের প্রলেপ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মূর্তিগুলোর গঠন, মোড়ক ও সংরক্ষণের ধরন দেখে এগুলো পুরাকীর্তি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূর্তিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

LEAVE A REPLY