তুষার চিতা রক্ষায় হিমাচলের স্পিতি উপত্যকায় বিশেষ উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি

হিমালয়ের শীতল মরুভূমি স্পিতি উপত্যকায় একসময় তুষার চিতাকে গবাদিপশুর শত্রু ভাবা হতো। কিন্তু এখন সেই শত্রু বদলে গেছে পরম মৈত্রীতে। আর এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছেন স্থানীয় একদল নারী, যাদের দলটির নাম ‘শেনমো’। স্থানীয় ভাষায় তুষার চিতাকে বলা হয় ‘শেন’, আর তাদের রক্ষাকারী এই নারীদের বলা হচ্ছে ‘শেনমো’।

ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো, তথ্য সংগ্রহ এবং কম্পিউটারে ছবি বিশ্লেষণ করার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই নারীরা। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা নারীরাও এখন দক্ষ হাতে কম্পিউটার চালাচ্ছেন।

হাড়কাঁপানো শীতে ভোরবেলা ঘরের কাজ শেষ করে তারা বেরিয়ে পড়েন পাহাড়ে। ১৪ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় পাতলা বাতাসে হেঁটে গিয়ে বসান ক্যামেরা।

তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে হিমাচলে তুষার চিতার সংখ্যা ২০২১ সালের ৫১টি থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৮৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

আগে তুষার চিতা গবাদিপশু শিকার করলে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হতো। এখন এই ‘শেনমো’ দলের নারীরা গ্রামবাসীদের সরকারি বিমা প্রকল্পে যুক্ত হতে সাহায্য করছেন এবং পশুদের জন্য নিরাপদ ঘের তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। এতে করে মানুষের মনে তুষার চিতার প্রতি ঘৃণা কমেছে।

সংরক্ষণবিদদের মতে, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া বন্যপ্রাণী রক্ষা করা অসম্ভব। স্পিতি উপত্যকার এই নারীরা এখন কেবল সহকারী নন, তারা নিজেরাই দক্ষ সংরক্ষণকর্মী হয়ে উঠেছেন। সামান্য আয়ের জন্য কাজ শুরু করলেও এখন তারা দায়িত্ববোধ থেকেই ‘পাহাড়ের ভূত’ বা তুষার চিতাকে বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন।

সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY