ইরান যুদ্ধে এবার ভেস্তে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?

ছবি : রয়টার্স

চলমান ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিতর্কিত বক্তব্য—সব মিলিয়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার প্রতি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের করা এক জরিপে তার বর্তমান আচরণ ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু আমেরিকান।

টানা ছয় দিনব্যাপী করা এই জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পরপরই তার জনপ্রিয়তা ছিল সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ।

যুদ্ধের চাপ ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি

জরিপ অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ মানুষ, যা আগের জরিপের তুলনায় সামান্য বেশি।

ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধকালীন বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশের পর জরিপে দেখা গেছে, বহু আমেরিকান এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও ৭৯ বছর বয়সী এই নেতার মেজাজ ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। জরিপে মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান তাকে ‘সংযত স্বভাবের’ বলে মনে করেন।

বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে।

দলের ৫৩ শতাংশ তাকে ‘সংযত’ মনে করলেও জরিপে ৪৬ শতাংশ এই মতের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৭ শতাংশ।

জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন গত এক বছরে ট্রাম্পের মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান ১৪ শতাংশ, স্বতন্ত্র ৫৪ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাট ৮৫ শতাংশ একই মত দিয়েছেন।

পোপ লিওর ওপর আক্রমণ

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প বেশ উত্তেজিত আচরণ দেখিয়েছেন।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন, আবার ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিও চতুর্দশকে অপরাধের বিষয়ে ‘দুর্বল’ বলে আক্রমণ করেন।

এমনকি ট্রাম্প ‘অশ্লীল ভাষায়’ ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ মানুষ। পাশাপশি পোপ লিওর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ৬০ শতাংশ আমেরিকানদের।

মিত্রদের উদ্বেগ

এর আগে তিনি ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবিতে ন্যাটোমিত্র দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে ন্যাটো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। 

জীবনযাত্রার খরচ ও যুদ্ধের মূল্য

ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রও পেট্রোলের দাম বাড়ায়, যা অধিকাংশ আমেরিকানের ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে। দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন এই সামরিক অভিযান ব্যয়ের দিক থেকে সার্থক হয়েছে। আর ২৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও নিরাপদ হবে।

LEAVE A REPLY