শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না। বিচারহীনতার কারণে নির্যাতন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। নারী ও শিশু যেকোনো ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীতে নারী উন্নয়ন শক্তির আয়োজনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

খিলগাঁও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহায়তা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট ও ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা পারভীন। প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা দিনে দিনে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট প্রায় ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৫৭০। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বড় অংশই পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কার, সামাজিক প্রভাব ও বিচারহীনতার কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না।‌ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচারহীনতা, সামাজিক নীরবতা, কুসংস্কার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার—এই চারটি প্রধান কারণ এই অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে দায়ী।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সহসভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, নোয়াখালীতে এক কিশোরীকে ‘জ্বীন-ভূতের আছর’ আছে বলে প্রতারণা করে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করে। পরে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মামলা করার পর পরিবারকে হামলা ও অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়া হয়।

এখনো পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।

ইয়ং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, এই ঘটনাগুলো আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না। বিচারহীনতার কারণে নির্যাতন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব বলেন, কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ না করলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচারের জন্য সরকারের প্রশাসনিক নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে।

শিলিড-এর প্রচার সম্পাদক সেলিনা খাতুন বলেন, নারী ও শিশু যেকোনো ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

LEAVE A REPLY