সংগৃহীত ছবি
ঢালিউডের রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে যিনি একই সঙ্গে সৌন্দর্য, অভিনয় আর জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন, তিনি চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময় এগিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর সৌন্দর্য আর উপস্থিতির আবেদন যেন দিনকে দিন আরো গভীর হয়েছে। তরুণ-তরুণীদের কাছে তিনি আজও এক অনিন্দ্য সুন্দরীর নাম, যাকে ঘিরে মুগ্ধতা যেন কখনো পুরোনো হয় না।
অভিনয়ে দীর্ঘ পথচলায় পূর্ণিমা বরাবরই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বয়স বাড়লেও তাঁর রূপের ঝলকানি নিয়ে ভক্তদের আলোচনা থেমে নেই। বরং সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন তাঁর উপস্থিতিতে এক নতুন দীপ্তি যুক্ত হচ্ছে। ঢালিউডের এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী এখনো সমানভাবে আলোচনায় আসেন—কখনো অভিনয়ে, কখনো রূপে, আবার কখনো ব্যক্তিত্বে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে আবারও নজর কাড়েন পূর্ণিমা।
গাঢ় সবুজ রঙের জমকালো পোশাকে, সোনালি সূক্ষ্ম নকশার আভিজাত্য মিশে তৈরি হয়েছে এক রাজকীয় আবহ। খোলা চুল, হালকা মেকআপ আর বড় দুল—সব মিলিয়ে তাঁর লুক হয়ে ওঠে ভিন্নমাত্রার আবেদনময়।

প্রতিটি ছবিতে তিনি হাজির হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তিতে—কোথাও মিষ্টি হাসি, কোথাও গভীর দৃষ্টি। লাল আলো আর সোনালি ব্যাকড্রপ তাঁর উপস্থিতিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।ভক্তদের মন্তব্যেও ভরে ওঠে প্রশংসা—কারো ভাষায় তিনি ‘চিরসবুজ’, কারো চোখে তিনি সময়কে হার মানানো সৌন্দর্য।
সম্প্রতি পূর্ণিমা একটি প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং শেষ করেছেন। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে নির্মিত এ প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘অস্তিত্বের লড়াই’। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর প্রযোজনায় এটি পরিচালনা করেছেন ‘প্রেমের তাজমহল’ খ্যাত গাজী মাহবুব।
জানা গেছে, গল্পে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি ও বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী।
মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এটি দেখানো হবে।
১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্ম নেওয়া পূর্ণিমার শৈশব কেটেছে সেখানেই। পরে কৈশোরে ঢাকায় এসে বদলে যায় তাঁর জীবনের গতি। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীনই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু শিশুশিল্পী হিসেবে, ‘শত্রু ঘায়েল’ সিনেমায় প্রথম দেখা যায় তাঁকে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। সেই শুরু থেকেই দর্শক মনে জায়গা করে নেন পূর্ণিমা, আর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘লাল নীল বেগুনী’ তাঁকে টিভি দর্শকের কাছেও ভীষণ পরিচিত করে তোলে। এ ছাড়া ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বহু নাটক ও টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বহু ব্র্যান্ডের মুখ হয়েছেন তিনি।
ঢালিউডের বহু তারকাদের সঙ্গে জুটিবেঁধে কাজ করেছেন পূর্ণিমা, যার মধ্যে রয়েছেন—মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খান পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের মনে জায়গা করে নেয় রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটি। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বহু চলচ্চিত্রে তাঁদের রসায়ন ছিল দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে। বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ হয়ে ওঠে বাণিজ্যিকভাবে অন্যতম সফল সিনেমা।

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবির জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন পূর্ণিমা। পাশাপাশি ‘মনের মাঝে তুমি’ (২০০৩) এবং ‘হৃদয়ের কথা’ (২০০৬) সিনেমার জন্য পেয়েছেন মেরিল পুরস্কারও।
ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালে আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁদের ঘরে আসে কন্যাসন্তান আরশিয়া উমাইজা। পরবর্তীতে সেই সংসারে বিচ্ছেদ হলে তিনি আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন।
বর্তমানে সিনেমায় নিয়মিত না হলেও পূর্ণিমার অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ নামের দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবি দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস এবং আরেফিন শুভ।
সিনেমায় দেখা না গেলেও তাকে মাঝেমধ্যেই টেলিভিশনের পর্দায় পাওয়া যায়। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো শোয়ের বিচারক হিসেবে। এছাড়া বিজ্ঞাপনেও হাজির হন মাঝেমাঝে।










































