সংগৃহীত ছবি
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও শিল্পীরা।এবার আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা তারিক আনাম খান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের সুন্দর একটি আগামী হারিয়ে গেল। একসঙ্গে থেকে আলাদা হয়ে গেল। কারিনা কায়সার আমাদের ছেড়ে চলে গেল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’
পরিচালক রেজাউর রহমান পরিচালিত ‘একসাথে আলাদা’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্যও যৌথভাবে লিখেছিলেন কারিনা কায়সার ও রেজাউর রহমান।
সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তারিক আনাম খান লেখেন, ‘খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের দেখা, অল্প কথা, একটাই কাজ ‘একসাথে আলাদা’। অত্যন্ত আধুনিক একটা ভাবনার গল্প।দুটি মানুষ কাছে থেকে কষ্ট পাওয়ার থেকে আলাদা হয়ে বন্ধু হয়ে থাকা যায় কি না, তারই এক আলেখ্য, কমেডির আবরণে।’
কারিনার কাজের ধরন নিয়ে তিনি আরো লেখেন, “কারিনার কমেডির দিকে ঝোঁক বেশি, কমেডির জন্য সিচুয়েশন, অ্যাকশন লাইন, সংলাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ, এটা ও জানত। জানত, কমেডিতে নিজের ওপরে হাসতে হয়। নিজের কাজটা খুব মন দিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে করত; সারাক্ষণ মনিটরের সামনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকত, চুপি চুপি কথা বলত তার টিমের সঙ্গে। আমার প্রায়ই মনে হতো, ‘ও কিছু বলে না কেন, আমার কি কিছু হচ্ছে না?’ কথাটা বলা হয়নি, আর বলা হবেও না!”
আক্ষেপের সুরে এই অভিনেতা আরো লেখেন, ‘আমাদের একটা ধারাবাহিক পারিবারিক কমেডি করার কথা হচ্ছিল…তার আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে কারিনা চলে গেল! হায়রে জীবন! দোয়া করি অনন্তলোকে কারিনা ভালো থাকুক।’
তরুণদের উদ্দেশে সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন তারিক আনাম খান। তিনি লেখেন, ‘একটা অনুরোধ, বিশেষ করে আমার তরুণ প্রজন্মের কাছে, জীবনযাত্রায় সচেতন হোন, খাবারদাবার নিয়ে সচেতন হোন। জীবন সুন্দর, জীবন মূল্যবান।’
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
মাত্র ৩১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কারিনা। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তার দাদি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।











































