গাছের কার্বন শোষণ নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এল যেসব তথ্য

সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা্ কী পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, এ নিয়ে আগের বিভিন্ন গবেষণায় যে ফলাফল উঠে এসেছে সেগুলো সঠিক ছিল না বলে দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল। 

তারা জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা আগে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করত বলে মনে করা হত, বাস্তবে তার চেয়ে কম শোষণ করে।এই ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণা এবং বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ সাময়িকীতে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক রিসার্চের আর্থ অবজারভিং ল্যাবরেটরি’। গবেষণাটির সহলেখক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ড. মাইকেল বার্তোলাচ্চি।তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার স্কুল অব ফিজিক্স, ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ের গবেষক। তিনি ‘উলংগং মেথডোলজি ফর বায়েসিয়ান অ্যাসিমিলেট অব ট্রেস-গ্যাসেস’ বা ‘উমব্যাট’-এ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের একটি দলের নেতৃত্ব দেন।

এই দলটি নাসার সমন্বয়ে চলা একটি বড় প্রকল্পে কাজ করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বায়ুমণ্ডলে কত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে এবং কতটা শোষিত হচ্ছে, তার হিসাব বের করা।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, গাছপালা ও অন্যান্য জীব প্রতিনিয়তই বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড আদান-প্রদান করছে। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় সরাসরি এই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই তারা সরাসরি সব জায়গায় মাপার বদলে একটি অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তারা বাতাসে থাকা CO₂ কত আছে তা মাপে। তারপর বাতাসের গতিপথ (বায়ু প্রবাহ) ব্যবহার করে বুঝে নেয় যে এই CO₂ কোথা থেকে এসেছে।

নাসার এই প্রকল্পে উমব্যাট দলের পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য গবেষক দলের তথ্যও যুক্ত করা হয়। এর সঙ্গে সমুদ্র থেকে নির্গত কার্বন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে হওয়া নির্গমনের তথ্যও যোগ করা হয়। এ ছাড়া উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় বিমান থেকে সংগ্রহ করা নতুন পর্যবেক্ষণ তথ্যও বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, ফলাফলে দেখা গেছে, উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা অনেক গবেষণা ও মডেলের পূর্বাভাসের তুলনায় কম কার্বন শোষণ করে। এমনকি কার্বন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এই অঞ্চল প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ বা সমান অবস্থাতেও থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন বাস্তুতন্ত্র বেশি কার্বন শোষণ করে সাহায্য করছে এবং কোনগুলো বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ছে, তা জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, এই গবেষণা দেখিয়েছে, নতুন পরিমাপভিত্তিক কর্মসূচি কার্বন চক্র সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে কার্বন চক্রবিষয়ক গবেষণার অর্থায়ন অনেক কমে গেছে- এমন সময়ে।

ড. বার্তোলাচ্চি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে কার্বন চক্র এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে আরো নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
 

LEAVE A REPLY