স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়া ফ্রান্সের ম্যাচে বড় ধরনের লাল কার্ড থেকে বেঁচে যান মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার প্রথমার্ধে সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রির গোড়ালিতে স্টাড তুলে আঘাত করেন। তার এভাবে সম্ভাব্য লাল কার্ডের ফাউল করেও কোনো কার্ড না দেখা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপে।
ম্যাচের প্রায় ১৪ মিনিটের মাথায় বল দখলে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি। এর আগেই ওলিসের চাপ কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওলিসে পেছন থেকে দৌড়ে এসে বেপরোয়াভাবে ট্যাকল করে বসেন।
তখন রদ্রি বল ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবু ওলিসের স্টাড তার পায়ের পেছনের অংশে লেগে যায়। এই ঘটনায় ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে।
তবে এই ঘটনায় হলুদ কার্ডও পাননি সাবেক ক্রিস্টাল প্যালেস তারকা ওলিসে। এই বিশ্বকাপে পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে সেরা প্লেমেকারের তালিকায় আছেন তিনি। তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। ২৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় কেন সতর্কতা পেলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সাবেক রেফারি মার্ক হ্যালসি অবশ্য মনে করেন রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তিনি দ্য সানকে বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে রেফারি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এটা ফ্রি কিক প্রাপ্য ছিল, তবে বেপরোয়া ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ডও আশা করেছিলাম।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘একটি অসতর্ক ট্যাকলে শুধু ফ্রি কিক হয়, আর কিছু না। একটি বেপরোয়া ট্যাকলে ফ্রি কিক ও হলুদ কার্ড হয়। আর যে ট্যাকলে বাড়তি শক্তি প্রয়োগ করে খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা বিপন্ন করা হয়, সেখানে লাল কার্ড দিতে হবে।’
তার মতে, ‘ওলিসের ট্যাকল সেই মাপকাঠি পূরণ করেনি। স্পেন ফ্রি কিক পেলেও বেপরোয়া ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ড না পেয়ে ওলিসে ভাগ্যবান হয়েছেন।’
সে যাত্রায় সৌভাগ্যবান হলেও এরপর ফ্রান্সের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন উইলিয়াম সালিবা। এই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবে নামা ফ্রান্স পুরোপুরি ছন্দ হারিয়ে ফেলে। বিরতির পর দ্বিতীয় গোলটি করেন পেদ্রো পোরো।
এই জয়ে রোববারের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এখন তারা অপেক্ষায় আছে বুধবারের বড় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিজয়ী দলের জন্য।










































