হঠাৎ করেই অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ভিনচিচ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ বলে কথা! শ্রেষ্ঠত্বের ম্যাচে রেফারিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া যেকোনো রেফারির কাছেই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে স্লাভকো ভিনচিচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি এমন ঘোষণা শোনার পরেই আনন্দাশ্রু ঝড়ে ভিনচিচের দুচোখ বেয়ে। তবে স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনাল শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মন খারাপের সংবাদ দিয়েছেন তিনি। হঠাৎ করেই বাঁশি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্লোভেনিয়ার রেফারি। আর কখনো বাঁশিতে ফুঁ দেবেন না বলে তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনটি লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের এক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের ঐতিহাসিক রেফারিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন স্লাভকো ভিনচিচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের দায়িত্ব পালন করে ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেফারির একজন হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন মারিবোরের রেফারি।’

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ভিনচিচ। ফাইনালসহ এবারের বিশ্বকাপে ৪টি।বিপরীতে ২০২২ বিশ্বকাপে ২টি। তার পরিচালনায় ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে তার নেওয়া বেশ কটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা-বিতর্কও হয়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের বিপরীতে স্পেনের উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল হওয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়।

২০০৭ সালে স্লোভেনিয়ার শীর্ষ লিগ প্রভা লিগা দিয়ে পেশাদার রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ভিনচিচ।পরে একে একে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগসহ অনেক টুর্নামেন্টে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তারই পুরস্কার হিসেবে ২০১০ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হন ৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ। সব মিলিয়ে ৫১৩ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। 

বিশ্বকাপের ফাইনালে ছাড়াও ২০২২ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভিনচিচ।

LEAVE A REPLY