নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নতুন কৌশল ব্যবহার করছে রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া বহর’। এসব জাহাজ পুরোনো একটি সামুদ্রিক ট্র্যাকিংব্যবস্থা বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন করছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর মাধ্যমে ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেলবাহী জাহাজগুলো। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জব্দের ঝুঁকি থেকেও নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে তারা। আইপেপারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সমুদ্রে জাহাজ চলাচল নজরদারির জন্য এআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি জাহাজের নাম ও পরিচয়, অবস্থান, চলার দিক, কোন বন্দর থেকে এসেছে এবং কোন বন্দরের দিকে যাচ্ছে- এসব তথ্য জানা যায়। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু রুশ তেলবাহী জাহাজ এখন এই ব্যবস্থাতেই কারসাজি করছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘এআইএস হ্যান্ডশেক’। এই পদ্ধতিতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি বড় তেলবাহী জাহাজ সাময়িকভাবে অন্য একটি ছোট জাহাজের পরিচয় ব্যবহার করে।কখনো কখনো মাছ ধরার নৌকার পরিচয়ও নেওয়া হয়। এ জন্য দুটি জাহাজ সমুদ্রে কাছাকাছি যায়। এরপর তারা নিজেদের এআইএসের তথ্য একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করে। পরে তারা আলাদা হয়ে যায়।
সব স্মৃতি মুছে গেলেও বিটিএস গায়ক জিমিনকে ভুলেননি প্রবীণ নারী
এর ফলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তেলবাহী জাহাজটি একটি সাধারণ মাছ ধরার নৌকা বা ছোট জাহাজ হিসেবে দেখা যায়।অন্যদিকে ছোট জাহাজটিকে তেলবাহী জাহাজ হিসেবে দেখা যেতে পারে। পরে দুটি জাহাজ আবার একই জায়গায় মিলিত হয়ে নিজেদের আসল পরিচয় ফিরিয়ে নিতে পারে। সেন্টার ফর নেভাল অ্যানালাইসিসের কর্মসূচি পরিচালক জোশুয়া টালিস বলেন, এআইএস ব্যবস্থা কয়েক দশক আগে জাহাজের নিরাপত্তা ও চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।তার মতে, বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যেভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য এআইএস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। টালিস বলেন, ছায়া বহরের জাহাজ এবং তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা কর্তৃপক্ষের মধ্যে এখন এক ধরনের ‘বিড়াল-ইঁদুরের খেলা’ চলছে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ যখন এসব জাহাজের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, তখন জাহাজগুলোও নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন করতে নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক গনসালো সাইজ এরাউস্কিন বলেন, ছায়া বহরের জাহাজগুলোর চলাচল গোপন করার জন্য একটি ‘সক্রিয় অভিযান’ চলছে।
তার মতে, ব্রিটিশ জলসীমার কাছে জাহাজ চলাচলের পথ পরিবর্তনের পর এআইএসে কারসাজির ঘটনাও বেড়েছে। এরাউস্কিন বলেন, ইংলিশ চ্যানেল এড়িয়ে উত্তর স্কটল্যান্ডের উপকূল এবং আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে চলাচল করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই এলাকাতেও এআইএসের তথ্য পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, এসব পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর প্রকৃত গতিবিধি গোপন রাখা এবং তাদের অনুসরণকারী কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা। কখনো কখনো কর্তৃপক্ষ জাহাজের এআইএসে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জাহাজটির বাস্তব চেহারা বা অবস্থানের মিল না থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারে। তবে জোশুয়া টালিসের মতে, এই ধরনের কারসাজি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ের নজরদারি পার হয়ে যেতে পারে। এমনকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাহাজের গতিপথ অনুসরণ করা ব্যবস্থাকেও বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে জাহাজের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কর্তৃপক্ষের জন্য আরো কঠিন হয়ে উঠছে।
বক্স অফিস ধসের পর ওটিটি স্বত্বেও ধাক্কা, ১৫০ কোটি থেকে এখন ৩০ কোটির প্রস্তাব
এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই জুনে ব্রিটিশ বাহিনী ইংলিশ চ্যানেলে ‘স্মির্টস’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেটি জব্দ করে। জাহাজটি ক্যামেরুনের একটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার তেল ছিল। ১৪ জুনের ওই অভিযান প্রায় ছয় ঘণ্টা চলে। এতে রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে আকাশপথ থেকেও সহায়তা দেওয়া হয়। এতে চিনুক, মার্লিন এমকে-৪ ও ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।এ ছাড়া রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি পি-৮ বিমান এবং রয়্যাল নেভির এইচএমএস সাদারল্যান্ড ও এইচএমএস লেডবেরি জাহাজও অভিযানে সহায়তা করে। রিভিয়েরার তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শেষে স্মির্টসকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে একটি নোঙর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাহাজটি পরিবেশ বা নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এটি ছিল এ ধরনের প্রথম ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন অভিযান।
স্মির্টস জব্দ হওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ তাদের চলাচলের পথ পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। এসব জাহাজ এখন ইংলিশ চ্যানেলের পরিবর্তে উত্তর স্কটল্যান্ডের উপকূল এবং আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম দিক দিয়ে চলাচল করছে। এর পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোতে এআইএসের তথ্য পরিবর্তন করে জাহাজের প্রকৃত পরিচয় ও গতিপথ গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে অর্থের জোগান দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছায়া বহরের ওপর নির্ভর করেন।তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিত মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। মুখপাত্র বলেন, “প্রতিদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে। তারা যুক্তরাজ্যের জলসীমার ভেতরে ও আশপাশে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছে, তা চ্যালেঞ্জ করছে এবং ঠেকানোর চেষ্টা করছে।”











































