সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ফুটবলে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস! ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধেই সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিয়েছে ইউরোপের ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। স্পষ্ট ভাষায় তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার কোনো টুর্নামেন্টেই আর মাঠে নামবে না ইউরোপের দেশগুলো! বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় উয়েফার এমন নজিরবিহীন বোমা ফাটানো ঘোষণায় এখন তোলপাড় পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।
মূলত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অতি-বাণিজ্যিক এক খোঁড়াকলের কারণেই এই তুলকালাম। বিশ্বকাপসহ ফিফার মূল প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য গঠিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিকিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছিলেন ইনফান্তিনো। আর এই বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারও! ঐতিহ্যবাহী ফুটবলকে বাণিজ্যিক স্বার্থে বিকিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা মেনে নেয়নি ইউরোপ।
পরিস্থিতি এখন এতটাই বিষাদময় যে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ফিফা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ থেকেই ইউরোপের দলগুলো হঠাৎ পাতাড়ি গুটানো শুরু করতে পারে।এরপরই অক্টোবরে রয়েছে নারী বিশ্বকাপের প্লে-অফ। উয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এর জন্য পুরোপুরি দায়ী ফিফা। কেউই চায় না ফুটবলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, কিন্তু এমন স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া অসম্ভব।’
এদিকে ইউরোপের এই শক্ত অবস্থানের পাশে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা ‘কনকাকাফ’। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করেছে। ব্রিটিশ ফুটবলের প্রধান সংস্থা ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং স্কটিশ এফএ-ও উয়েফার পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপ ও কনকাকাফ মিলিয়ে একাট্টা হয়ে যাওয়ায় কার্যত একা হয়ে পড়েছেন ইনফান্তিনো।
এই চরম বিদ্রোহের মুখে এখন মারাত্মক হুমকির মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চেয়ার।একের পর এক একপেশে সিদ্ধান্ত ও নিজের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করার অভ্যাসে নিজের ওপর থেকে বড় বড় দেশগুলোর আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
সামনেই ফিফা নির্বাচন, যেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার স্বপ্ন দেখছিলেন ৫৬ বছর বয়সী এই সংগঠক। কিন্তু বর্তমান অচলাবস্থা তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উয়েফার সাবেক প্রধান নির্বাহী লার্স-ক্রিস্টার ওলসন তো বলেই দিয়েছেন, ‘ইনফান্তিনোকে সরানোটাই হবে বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি নতুন শুরুর বড় সুযোগ।’
ইউরোপ ও কনকাকাফ ছাড়া ফিফার বিশ্বকাপ কিংবা কোনো টুর্নামেন্ট যে পুরোপুরি অচল ও নিরামিষ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার সবকটি শীর্ষ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আধিপত্য দেখিয়েছে উয়েফার দলগুলোই। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, পিছু হটা ছাড়া ইনফান্তিনোর সামনে এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই।











































