জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় ফরোয়ার্ডকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করল ফিফা

সংগৃহীত ছবি

গত জুনে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে স্বাগতিক ফুটবলারদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়লেন জাতীয় দলের উঠতি ফরোয়ার্ড আল আমিন। অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার দায়ে তরুণ এই ফুটবলারকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

একটি ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দল সাধারণত সাত থেকে আটটির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে না। সেই হিসাবে ১৫ ম্যাচের দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী প্রায় দুই বছর জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ম্যাচ খেলতে পারবেন না আল আমিন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের এক বড় ধাক্কা।

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড় শাস্তির নজির নিকট অতীতে নেই।এর আগে ১৯৮৯ সালে পাকিস্তান সাফ গেমসে রেফারিকে লাঞ্ছিত করায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক ইলিয়াস হোসেন। 

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, ফিফা থেকে নিষেধাজ্ঞার চিঠি বাফুফেতে পৌঁছালেও তা আল আমিনকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নিজের এই কড়া শাস্তির বিষয়ে আল আমিন জানান, ‘আমাকে এখনো বাফুফে থেকে কিছু বলা হয়নি, তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

উল্লেখ্য, জুন ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ মূল দল যখন সান মারিনো সফরে ছিল, তখন অলিম্পিক দলটি অংশ নেয় মালদ্বীপের চার জাতি টুর্নামেন্টে।টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক মালদ্বীপের সঙ্গে ম্যাচে তুমুল উত্তেজনার একপর্যায়ে মারামারিতে জড়ায় দুই দলের ফুটবলাররা। সেখানে বিতর্কিত রেফারিংয়ের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আঘাতও করেন মালদ্বীপের ফুটবলাররা। 

ঘটনার পরপরই ফিফা প্রথম দফায় বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারকে এবং ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলামকে আর্থিক জরিমানা করেছিল। তখন আল আমিনের ফাইলটি স্থগিত রেখে নজরদারিতে রাখা হলেও সম্প্রতি তার ওপর নেমে আসে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের কড়া শাস্তি দিলেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ফিফা কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এখনও বাফুফেকে স্পষ্ট করেনি।

LEAVE A REPLY