জাপানের সমৃদ্ধ অর্থনীতির নতুন হাতিয়ার সামরিক শক্তি

ছবি : রয়টার্স

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম উন্নত মিশ্র অর্থনীতির দেশ জাপান। উন্নত শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী সেবা খাত এর মূল চালিকাশক্তি হলেও দেশটির নজর এখন সামরিক সক্ষমতায়।বর্তমানে দ্রুতগতিতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিরও একটি পথ হিসেবে তুলে ধরছে জাপান সরকার।

দেশটির সর্বশেষ প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষাশিল্পে বিনিয়োগ ও অস্ত্র উৎপাদন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে।

চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকির বার্ষিক মূল্যায়নে প্রকাশিত এ শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা জাপানকে এখন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, স্টার্টআপে বিনিয়োগ এবং অস্ত্র উৎপাদনে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপস্থাপনা নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ শুধু সামরিক শক্তিই বাড়ায় না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমানেরও উন্নতি ঘটায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই বার্তা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী রাষ্ট্রীয় ব্যয়নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এবারের শ্বেতপত্রের প্রচ্ছদেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের সংস্করণগুলোর মতো সেনা, অস্ত্র বা সামরিক প্রতীক না রেখে এতে উজ্জ্বল আধুনিক নগরীর পটভূমিতে হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবারের অ্যানিমে-শৈলীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎমুখী জাপানের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন কৌশলে বাড়তে পারে ব্যয়

বর্তমানে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো বাড়ানোর সুপারিশ থাকবে, যার প্রধান উদ্দেশ্য হবে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতে চীনকে নিরুৎসাহিত করা এবং জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য পদক্ষেপ জাপান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এটি জাপানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

এরে আগে গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চীনের তাইওয়ান আক্রমণ যদি জাপানের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জাপান আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বেইজিং তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।

অর্থায়নে চ্যালেঞ্জ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাপান কর বৃদ্ধি, ব্যয় সংস্কার এবং এককালীন আয়ের সমন্বয়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে আরো প্রতিরক্ষা ব্যয় কিভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। এ অবস্থায় নতুন ব্যয় সরকারি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে রছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত অর্থবছরের জন্য সরকার রেকর্ড ১২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট অনুমোদন করেছে। পরে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে অতিরিক্ত ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ড্রোন এবং অন্যান্য মানববিহীন অস্ত্রব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় হতে পারে।

google news

কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

Add as a preferred source on Google

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

LEAVE A REPLY