সংগৃহীত ছবি
শরীরে সামান্য ব্যথা হলেই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক (পেইনকিলার) কিনে খাওয়া অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় এবং কোনো প্রেসক্রিপশন না লাগায় এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস সব সময় নিরাপদ নয়। বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা বা রোগ থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া মারাত্মক ক্ষতিকর, এমনকি জীবনঘাতীও হতে পারে। চলুন, জেনে নিই কোন কোন শারীরিক সমস্যায় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক।
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা : শরীরে পানির ঘাটতি হলে দেখা দেয় দুর্বলতা এবং জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা।এ সময় ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা সরাসরি কিডনির রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, যার ফলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
জ্বর ও সর্দি-কাশি : ঠাণ্ডা লাগা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক সিরাপে আগে থেকেই প্যারাসিটামল থাকে। এর সাথে আলাদা করে ব্যথানাশক ওষুধ খেলে শরীরে ওষুধের মাত্রা (ডোজ) অতিরিক্ত হয়ে যায়, যা লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে।
লিভারের রোগ বা ফ্যাটি লিভার : আগে থেকেই লিভারের সমস্যা বা ফ্যাটি লিভার থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান জমা করে।এর থেকে হেপাটাইটিস এবং লিভারের কোষের ক্ষয় হতে পারে।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ : কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায়, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
পেটের আলসার ও আইবিএস : এসব ওষুধ পাকস্থলীর ভেতরের সুরক্ষাকারী স্তর ধ্বংস করে দেয়। ফলে অ্যাসিড সরাসরি ক্ষত তৈরি করে আলসার বা পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) রোগীদের জন্যও এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
হাঁপানি বা অ্যাজমা : হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ শ্বাসনালিতে তীব্র বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে এবং হাঁপানির টান বাড়ে।
তাই সামান্য ব্যথায় নিজে থেকে কোনো পেইনকিলার না খেয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ খাওয়া নিরাপদ।









































