মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের একটি জনবহুল বাজার এলাকায় এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় সেনাবাহিনী।
এদিকে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে কিয়াকতাও শহরের একটি স্থানীয় পাইকারি বাজারের কাছে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি বোমা ফেলা হয়। মুহূর্তে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। হামলায় বাজারে আসা ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও পথচারীসহ অনেকে নিহত হন।হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং এপির কাছে এই ভয়াবহতার চিত্র নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলার শিকার বাজারটি এই অঞ্চলের প্রধান পাইকারি কেন্দ্র ছিল, যেখানে রাজ্যজুড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, বহু যানবাহন দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং নিকটস্থ ব্রিজের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে বরাবরের মতোই সামরিক জান্তা সরকার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইতিপূর্বে এ ধরনের হামলার জবাবে জান্তা দাবি করে আসছিল যে তারা কেবল বৈধ ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
২০২১ সালে সু চির গণতান্ত্রিক সরকার পতনের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ বছর সেন শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
অন্যদিকে রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়তে থাকা আরাকান আর্মি (এএ) ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে।তারা ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দফতর দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে সেনাবাহিনী সেখানে কঠোর অবরোধ আরোপ করায় খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতের ফলে রাখাইনেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। আগস্টে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।











































