মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
তাইওয়ানকে ‘চীনের বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি প্রদেশ’ হিসেবে বর্ণনা করায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাইপে সতর্ক করেছে যে, এর ফলে মালয়েশিয়ায় তাইওয়ানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আস্থা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘তাইপে টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনের সূত্রে দিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থান কার্যকরভাবে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের শক্তি প্রয়োগের বা আগ্রাসনের অবস্থানকে বৈধতা দেয় বলে মনে করছে তাইপে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে পুনঃব্যক্ত করেছে যে, তাইওয়ান সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এটি কোনোভাবেই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীনস্থ নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতার একতরফা দাবির কারণে তাইওয়ানের এই স্বাধীন ও স্বশাসিত মর্যাদার কোনো পরিবর্তন হবে না।
মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের পরিচিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাইওয়ান সরকার আনোয়ার ইব্রাহিমের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাইওয়ানের মতে, একজন গণতান্ত্রিক দেশের নেতা হিসেবে আনোয়ারের উচিত ছিল স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে সম্মান জানানো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো সতর্ক করে বলেছে, চাপ সৃষ্টি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালীর বর্তমান স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা সার্বিক আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা পরবর্তীতে তাইওয়ানের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আনোয়ারের মন্তব্যের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাইপে।বর্তমানে মালয়েশিয়ার সাথে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বহু তাইওয়ানি প্রতিষ্ঠানের সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। তাইওয়ান সরকারের মতে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে বেইজিংয়ের অবস্থানকে মালয়েশিয়ার সমর্থন দেওয়া দেখে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার এই চরম মুহূর্তে তাইওয়ান ঘোষণা করেছে যে, তারা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সর্বজনীন মূল্যবোধ বজায় রাখা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সমমনা দেশগুলোর সাথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে দেশটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল সে দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে এবং বেইজিংয়ের কোনো সার্বভৌমত্বের দাবি তারা কখনো মেনে নিবে না।











































