ইউএইতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

প্রতীকী ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইউএইর দিকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই দাবিকে ভিত্তিহীন এবং আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের দিকে ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ আনে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার গভীর রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত ঘোষণা করেছে।

তবে এ ধরনের হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি হিসেবে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এড়ানো উচিত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই দাবিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক শান্তি জোরদার করার চলমান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।’

মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বাঘাই বলেন, ‘এই আচরণ সৎ প্রতিবেশীসুলভ নীতির পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা জোরদার করার ও অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার বিস্তার রোধে চলমান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।’

তেহরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাঘাই বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসকের চলমান অপকর্ম, বিশেষ করে অসংখ্য ছদ্মবেশী অভিযানের ইতিহাস এবং বিদ্যমান জটিলতার কথা বিবেচনা করে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন।’ তবে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরান থেকে দেশের দিকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রথমটি দেশের জলসীমার বাইরে এবং দ্বিতীয়টি দেশের জলসীমার ভেতরে পড়েছে।’ 

পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত দ্বিতীয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তদন্ত ও মূল্যায়নে দেখা গেছে যে ইরান থেকে ধেয়ে আসা শনাক্ত হওয়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল মূলত সামুদ্রিক নৌচলাচল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এবং সেগুলো সাগরে গিয়ে পড়েছে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বিবৃতিটি আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একটি সংক্ষিপ্ত মোবাইল অ্যালার্টের মাধ্যমে বাসিন্দাদের ‘সম্ভাব্য মিসাইল হুমকির’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। গত জুনে একটি ভুল অ্যালার্ট এবং জুলাই মাসে একটি হামলার সতর্কবার্তার পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম অ্যালার্ট।এর আগে, সর্বশেষ মিসাইল সতর্কতা জারি করা হয়েছিল মে মাসের শুরুর দিকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ইরানের হামলার মূল ধাক্কাটি সামলাতে হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। দেশটির দিকে প্রায় ৩ হাজার মিসাইল ও ড্রোন ছোঁড়া হয়েছিল; যা এই অঞ্চলের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি। গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো হামলার খবর জানায়নি, যদিও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো হামলার শিকার হয়েছিল।

LEAVE A REPLY