সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের ঝোপঝাড়ে ঢাকা একটি দুর্গম এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়।পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত না করলেও মরদেহটি নিখোঁজ লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাউদার্ন হাইল্যান্ডস এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘন গাছপালার মধ্যে মরদেহটি পড়ে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম জায়গাটিতে মরদেহ পৌঁছাতে বা সেখান থেকে সরাতে হেঁটে যেতে হতে পারে।পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট সিডনির বাড়ি থেকে কাছের একটি জাতীয় উদ্যানে হাঁটতে যাওয়ার জন্য বের হন লিলি হুপার। রাত ১০টার মধ্যে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সেদিন রাতেই পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে নাট্টাই জাতীয় উদ্যানের একটি কঠিন ট্রেইলের নিচের দিকে থাকা গাড়ি রাখার জায়গায় তার গাড়ি পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তাকে খুঁজতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ওই কিশোরীর সন্ধানে অভিযান চালান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের একাধিক ইউনিট এতে অংশ নেয়। অভিযানে পুলিশের আকাশপথ ইউনিট, উদ্ধারকারী দল, ট্রেইল মোটরসাইকেল ইউনিট, অশ্বারোহী দল এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ইউনিট কাজ করে। এ ছাড়া গ্রামীণ অগ্নিনির্বাপণ সেবা, জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণীসেবা এবং অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ১০০ সদস্যও অনুসন্ধানে অংশ নেন। লিলির মৃত্যুর খবর প্রকাশের আগে তার অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস মিনস পার্লামেন্টের একটি শুনানিতে ভুল করে বলেন, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তার পরিবারকেও জানানো হয়েছিল যে লিলি জীবিত আছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্য সংশোধন করেন। তিনি জানান, লিলিকে জীবিত পাওয়া যায়নি। বরং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি মারা গেছেন। মিনস এই ভুলের জন্য পার্লামেন্টে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ একটি ঘটনা। তার পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্য আমি গভীরভাবে শোকাহত।’ লিলির জীবিত থাকার ভুল তথ্য কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন এই ‘ভুল যোগাযোগের’ জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ কমিশনার জোসেফ ক্যাসারকে প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে হুপারের পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি সরাসরি প্রশ্নটির উত্তর দেননি। তবে জানান, লিলির অবস্থা সম্পর্কে পরিবারের কাছে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার আগে প্রায় আট থেকে ১০ মিনিট সময় ছিল। ক্যাসার বলেন, পরিবারকে ঠিক কি তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। তবে পরিস্থিতি আবার ঘটার সুযোগ থাকলে তিনি তা বদলাতে চাইতেন। লিলি হুপারের মৃত্যুর ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ পার্লামেন্টে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লিলির মৃত্যু এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আলবানিজ বলেন, ‘লিলি হুপারের পৃথিবীকে দেওয়ার মতো আরো অনেক কিছু ছিল। তার মৃত্যু যে অনেক গভীরভাবে অনুভূত হবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
লিলির এলাকার সংসদ সদস্য ও অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথমে লিলিকে জীবিত পাওয়ার যে ভুল খবর দেওয়া হয়েছিল, তা পরিবারের শোককে আরো কঠিন করে তুলেছে। টেলর বলেন, লিলির পরিবার এখন কি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কল্পনা করাও কঠিন। এমন খবর যেকোনো মা-বাবার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, ‘আমরা লিলির পরিবারের শোকে অংশীদার।’









































