মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র্যাটক্লিফ অঘোষিত এক সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ঘুরে এসেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি মস্কোয় পৌঁছান বলে বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার এটাই প্রথম মস্কো সফর। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে, যার ফলে উচ্চপর্যায়ের এমন সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা।
সিআইএ প্রধান কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন বা এই সফরের মূল এজেন্ডা কী ছিল, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের আগেই যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে এই উদ্যোগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো থেকে নিরাপদে না ফেরা পর্যন্ত ইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী ‘সি-১৭’ পরিবহন বিমান লাটভিয়ার রিগা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে মস্কো শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক গাড়িবহর যেতে দেখা যায়। দিনভর অবস্থান শেষে একই দিনে বিমানটি পুনরায় রিগায় ফিরে যায়।
মস্কোতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে জন ফোরম্যান মনে করেন, হুট করে আয়োজিত এই সফরের পেছনে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ‘উত্তেজনা কমানোর’ প্রচেষ্টা থাকতে পারে। সম্প্রতি জার্মানিতে ড্রোন অনুপ্রবেশসহ একাধিক ঘটনায় রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে গুঞ্জন চলছিল। এ ছাড়া এই সফরের আরেকটি সম্ভাব্য বড় কারণ হতে পারে রাশিয়ায় আটক মার্কিন বন্দিদের মুক্তি। সিআইএ প্রধান র্যাটক্লিফ এর আগেও বন্দি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেন সমর্থনের অভিযোগে কারারুদ্ধ রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির বিষয়টিও এবার আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিআইএ প্রধানের এই আকস্মিক সফর ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।









































