দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইসরায়েলি ক্লাবকে গুঁড়িয়ে সাবাহর ইতিহাস

সংগৃহীত ছবি

আজারবাইজানের ফুটবল ইতিহাসে এক রূপকথার নতুন অধ্যায় রচিত হলো। ৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এক ‘পুঁচকে’ ক্লাব লিখে ফেলল মহাকাব্য।ইসরায়েলের শীর্ষ ক্লাব হাপোয়েল বিয়ের শেভাকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল সাবাহ এফকে। এই অবিশ্বাস্য জয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্ব (লিগ ফেজ)-এর টিকিট কাটল দেশটির এই তরুণ ক্লাবটি।

প্রথম লেগের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল সাবাহ। তাই ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ফিরতি ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য জীবন-মরণের লড়াই।সাধারণত ১৩ হাজার ধারণক্ষমতার মাসাজিরের ‘ব্যাংক রিপাবলিকা অ্যারেনা’য় খেলে সাবাহ। তবে এই মহা-গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল বাকুর ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার তৌফিক বাহরামোভ রিপাবলিকান স্টেডিয়াম। গ্যালারিভরা দর্শকের গর্জনই যেন কাল হলো প্রতিপক্ষের জন্য।

অবশ্য ম্যাচের শুরুটা ভালো ছিল না সাবাহর।ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই স্লাটানোভিচের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পাওয়া নোয়াচুকুর গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। বিরতির পর ৬১ মিনিটে মিজরাহির গোলে আবারও এগিয়ে গিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে ইসরায়েলের ক্লাবটি। 

কিন্তু হার মানেনি আজারবাইজানের ক্লাবটি। ৭৪ মিনিটে রাখমোনালিয়েভ গোল করে সাবাহকে সমতায় ফেরান।তবে ম্যাচে সমতা ফিরলেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে ছিল ইসরায়েলি ক্লাবটি। 

এরপরই আসে নাটকের আসল অধ্যায়! নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখন মুতাল্লিমোভের সেই অবিশ্বাস্য গোল! এই এক গোলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর সমতায় এলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে দুই লাল কার্ডে ভেঙে পড়ে ইসরায়েলি দলটির প্রতিরোধ। সেই সুযোগে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি সাবাহর আক্রমণভাগ। এমবিনা ও মিকেলসের পরপর দুই দুর্দান্ত গোলে ৫-২ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।

২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া সাবাহ এফকের এই উত্থান কোনো সিনেমার গল্পকে হার মানায়। দেশটির দ্বিতীয় বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করে দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাকুর এই দলটি। ২০১৫-২৬ মৌসুমে দেশের ঘরোয়া লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা দুইবার আজারবাইজান কাপও জিতেছে তারা। বছরের পর বছর ধরে আজারবাইজানের ফুটবলে ছড়ি ঘোরানো ক্লাব ‘কারাবাগ’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য থামিয়ে দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে নতুন রাজত্বের সূচনা করে এই ক্লাব।

উয়েফা কনফারেন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার যোগ্যতা এবারই প্রথম অর্জন করল তারা। 

LEAVE A REPLY