নৌঘাঁটির নিরাপত্তার স্বার্থে এবার এক রুশ নাগরিকের মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে সুইডেনের সশস্ত্র বাহিনী। রাজধানী স্টকহোম দ্বীপপুঞ্জের ‘মুসকো’ নৌঘাঁটির কাছেই অবস্থিত একটি সমুদ্রসৈকত ঘেঁষা প্লট অধিগ্রহণের আবেদন জানিয়েছে তারা।
রাশিয়ান ড্রোন হামলা ও সন্দেহজনক মালিকানার কারণে জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।
সুইডিশ গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা এক ধনকুবের ব্যবসায়ী মুসকো দ্বীপে এই বিলাসবহুল বাড়িটি তৈরি করছেন। যদিও আইনি নথিপত্রে বাড়িটির নিবন্ধিত মালিক তার স্ত্রী, যিনি রাশিয়া ও সুইডেন উভয় দেশেরই নাগরিক।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের পর দীর্ঘ দুই শতাব্দীর সামরিক নিরপেক্ষতা ভেঙে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেয় সুইডেন।
সেনাবাহিনীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির উত্থান সুইডেনের জন্য নতুন নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি করেছে।
সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোন হামলা প্রতিহত করা এবং মুসকো নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এই নির্দিষ্ট জমিটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এসভিটি’ জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই এই বাড়িটি সুইডিশ সামরিক বাহিনীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল জনসন জানান, দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো গোপনীয় তথ্য যেন বাইরে না যায় কিংবা প্রতিপক্ষ যাতে কোনো ধরনের কৌশলগত সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সুইডিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ কার্ল-জোহান এডস্ট্রম সতর্ক করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সুইডেন বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংকটময় নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
তবে বাড়ির মালিক ওই রুশ ব্যবসায়ী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকেই বাড়িটির মালিকানা রয়েছে তার স্ত্রীর নামে।











































