‘পাওয়ারাস’ নামে একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে প্রাথমিক ড্রোন-সম্পর্কিত একটি অর্ডার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত বুধবার রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ। প্রতিষ্ঠানটির সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত বিবরণ না দিলেও ভেলিকোভিচ জানান যে, চুক্তিটি চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। ভেলিকোভিচ বলেন, ‘এর লক্ষ্য হবে একটি যৌথ প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রযুক্তির সাথে পাকিস্তানের সেরা প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হবে।’
চালকবিহীন বিমান ও সামুদ্রিক ব্যবস্থার নকশা, উন্নয়ন এবং মোতায়েনে বিশেষজ্ঞ এই মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাটি এখন জনসমক্ষে লেনদেন হওয়া ‘অরেয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংস’-এর সাথে একীভূত হতে চলেছে, যার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলের সমর্থন রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় কোম্পানিই আগামী অক্টোবরের শুরুর দিকে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার আশা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফাইলিং অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প ‘আমেরিকান ভেঞ্চারস’ নামক একটি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে ‘অরেয়াস’-এ অংশীদারিত্বের মালিক।
কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ফক্স বলেছেন যে, পাকিস্তানের বেসরকারি প্রতিরক্ষা খাত উদীয়মান এবং এটি এখনও পরিপক্ক নয়, যা মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দেয়।তবে তিনি দাবি করেছেন, চুক্তিগুলো যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং কোম্পানির ব্যবসায়িক দিকটিতে ট্রাম্পের ছেলেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ভেলিকোভিচ বলেন, ‘আমি মনে করি, বহু দশক ধরে মার্কিন সরকার পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ড্রোন ব্যবস্থা সরবরাহের বিরোধী ছিল, যেখানে চীন এখানকার মানুষ যা চায় তা পাইকারি হারে সরবরাহ করেছে।’
তিনি আরো জানান, ‘কিন্তু এখন আমরা মার্কিন নীতির এক ধরনের জাগরণ দেখতে পাচ্ছি; এমনকি পাকিস্তানের বাইরেও, যার মাধ্যমে আমাদের ড্রোন ব্যবস্থাগুলো আরও বেশি শেয়ার বা ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে।’
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে যে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ভেলিকোভিচের নেতৃত্বে আসা ‘পাওয়ারাস’-এর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুই পক্ষ প্রতিরক্ষা সংগ্রহ, উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলেছেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উন্নত প্রযুক্তি এবং সহায়তার জন্য ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করেছিল।
পাকিস্কানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পাঠানো ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সির একটি চিঠির সূত্র ধরে বলা হয়েছে যে, এই প্যাকেজের মধ্যে লিংক-১৬ সিস্টেম, ক্রিপ্টোগ্রাফিক সরঞ্জাম, অ্যাভিওনিক্স আপডেট, প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।











































