মানসিক চাপে নিজের চুল টানেন? হতে পারে মানসিক সমস্যা

সংগৃহীত ছবি

মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা একাকিত্বের মধ্যে কেউ কেউ নিজের অজান্তেই চুল টানতে থাকেন। কারও ক্ষেত্রে এটি সাময়িক অভ্যাস হলেও, বারবার চুল টানা, তা বন্ধ করতে না পারা কিংবা এর কারণে চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আচরণ ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া নামের একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

ভারতের স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রিথিকা কৃষ্ণন জানিয়েছেন, ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি বারবার নিজের চুল টেনে তুলে ফেলেন। চুল টানার আগে তাঁর মধ্যে মানসিক চাপ বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।চুল টানার পর সাময়িক স্বস্তি বা তৃপ্তি অনুভূত হলেও কিছুক্ষণ পর আবার একই তাগিদ তৈরি হতে পারে।

কেন চুল টানার প্রবণতা তৈরি হয়?

মনোবিজ্ঞানীর মতে, এ ধরনের আচরণ সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়। প্রথমটি হলো অনিচ্ছাকৃত বা প্রায় অচেতনভাবে চুল টানা। বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় কেউ কেউ খেয়াল না করেই চুল টানতে থাকেন।একঘেয়েমি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধরনের আচরণে ভয়, হতাশা, রাগ কিংবা একাকিত্বের মতো আবেগের প্রতিক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে চুল টানা হয়। চুল টানার পর সাময়িক স্বস্তি পাওয়ায় আচরণটি বারবার ঘটতে পারে। এভাবে একটি চক্র তৈরি হয়, যা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে।

এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের অভ্যাস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ ভূমিকা রাখতে পারে।এর মধ্যে রয়েছে বেসাল গ্যাংলিয়া, যা চলাফেরা ও অভ্যাসগত আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক দ্বন্দ্ব শনাক্ত করার মতো কাজে যুক্ত।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন?

সব সময় চুলে হাত দেওয়া বা মাঝেমধ্যে চুল টানার তাগিদ অনুভব করলেই ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া হয়েছে, এমন নয়। তবে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • বারবার চুল টানার কারণে মাথায় দৃশ্যমানভাবে চুল কমে যাওয়া বা ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া।
  • চুল টানা বন্ধ করার বা কমানোর বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া।
  • এ কারণে মানসিক কষ্ট, লজ্জা বা সামাজিক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হওয়া।
  • পড়াশোনা, কাজ কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া।

চুল পড়ার পেছনে ত্বকের রোগ বা অন্য কোনো শারীরিক কারণও থাকতে পারে। তাই সঠিক কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসায় কি উপকার পাওয়া যায়?

ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আচরণগত থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে ‘হ্যাবিট রিভার্সাল ট্রেনিং’ বা অভ্যাস পরিবর্তনের প্রশিক্ষণ উল্লেখযোগ্য। এ পদ্ধতিতে চুল টানার তাগিদ কখন তৈরি হয়, তা শনাক্ত করা এবং সেই আচরণের পরিবর্তে অন্য প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার কৌশল শেখানো হয়।

এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নিজেকে দোষারোপ না করে সহায়তা নেওয়া জরুরি। মানসিক চাপের কারণে চুল টানার প্রবণতা তৈরি হলে সেটিকে শুধু ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সমস্যা বারবার হলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে মনোবিজ্ঞানী কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY