বছর শেষেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে যাচ্ছে কানাডা

সংগৃহীত ছবি

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সংরক্ষণবাদী’ বাণিজ্যনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশটির এ পদক্ষেপের কথা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বাণিজ্য বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এ উদ্যোগের এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় অটোয়া। তবে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতাও বজায় রাখতে চায় কানাডা।

নয়াদিল্লিতে কানাডার হাইকমিশনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি তাদের বাণিজ্য বহুমুখীকরণ কৌশলের অংশ। বছরের শেষ নাগাদ চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সহযোগিতা আলোচনার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (সিইটিএ) আওতায় বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে গত বছর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে কানাডা।২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গেও চুক্তি করতে চায় দেশটি। আনন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডা ইতিমধ্যে ৫১টি দেশের ১৫০ কোটি ভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন ১৫টি বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি মূলত আমাদের জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকা চলবে না।’

চুক্তির অগ্রগতি

ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।তার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।

আনন্দ বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে।

কানাডার হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্য বছরে ৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি ডলার। ওই বছর ভারতের সঙ্গে কানাডার পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ভারতে কানাডার রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, আর আমদানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

দুই দেশের সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে কানাডার কম্পানি কামেকো ও ভারতের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন আনন্দ।

এ ছাড়া কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংস ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা কেনার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি রুপির এ চুক্তি ভারতের সবচেয়ে বড় আন্ত সীমান্ত ব্যাংক অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

২০২৩ সালে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ধীরে এগোচ্ছে বলে জানান আনন্দ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY