সংগৃহীত ছবি
সকালে বা কাজের ফাঁকে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা বা কফি আমাদের অনেকেরই প্রিয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানীয় শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হলেও অতিরিক্ত গরম খাবার ও পানীয় গ্রহণ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম পানীয় পান করার অভ্যাস খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
খাবার ও তরল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর দীর্ঘ নালীটিকে খাদ্যনালি বলা হয়। খুব গরম পানীয় পান করলে গলা ও খাদ্যনালির কোষগুলো তাপজনিত আঘাতে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ক্যান্সার কোষ তৈরির ঝুঁকি বাড়ে।ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো খাদ্যনালীর ক্যান্সার। প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ এতে প্রাণ হারান। মূলত ধোঁয়া, অ্যালকোহল, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পানীয়ের কারণে খাদ্যনালী বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই রোগ হতে পারে।
জিহ্বার সংবেদনশীল স্বাদ কোরকগুলো অতিরিক্ত গরমে স্থায়ীভাবে ক্ষমতা হারাতে পারে।এ ছাড়া একটানা অতিরিক্ত গরম পানীয় খেলে ঠোঁট পুড়ে কালো হওয়া এবং বুকজ্বালা করার সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরম চা বা কফি পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে এবং পাচক রস পাতলা করে দেয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। পাশাপাশি খাবারের ঠিক পরপরই এসব পানীয় খেলে শরীরে আয়রনসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ শোষণে বাধা সৃষ্টি হয়।
কাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
যাদের পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের গরম পানীয় পান করা পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর যেকোনো উষ্ণতাকে অতিরিক্ত গরম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।শরীর উষ্ণ রাখা বা হজমের সুবিধার্থে শীতকালে গরম খাবার বা পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন হলেও তা ফুটিয়ে সরাসরি পান না করে কিছুটা জুড়িয়ে স্বাভাবিক সহনীয় তাপমাত্রায় এনে পান করাই নিরাপদ।











































