অপেক্ষায় আছি ব্যাটে-বলে মেলার : মম

মায়মুনা ফেরদৌস মম

ছিলেন রেডিও জকি। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল, এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিনীত ছয়টি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। মায়মুনা ফেরদৌস মমর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।

আশপাশের শব্দ শুনে মনে হচ্ছে, শুটিংয়ে আপনি।
হ্যাঁ, নাটকের শুটিং করছি পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায়। জয় সরকারের পরিচালনায় নাটকটির নাম ‘নিষ্ঠুর বাবা’। সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে নির্মিত হচ্ছে এটি।

আমাদের সমাজে নানা ধরনের অবক্ষয় দেখা যায়। চেষ্টা করি সেসব নিয়ে কোনো নাটক তৈরি হলে তাতে অভিনয় করতে।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আপনার অভিনীত ছয়টি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হচ্ছে। এগুলোর শিডিউল মেলাতে ঝামেলা হয় না?
নির্মাতারা এই ব্যাপারে আমাকে খুব সহযোগিতা করেন।

শিডিউল খালি থাকলে আগে থেকে তাঁদের জানিয়ে দিই। আমার শিডিউল অনুযায়ী শুটিংয়ের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। চ্যানেল আইয়ে ‘প্যারালাল’, এনটিভিতে ‘প্রবাসী পরিবার’ ও ‘জোনাকির আলো’, দীপ্ত টিভিতে ‘মাশরাফি জুনিয়র’, নাগরিকে ‘হালের হাওয়া’ এবং আরটিভিতে ‘চিটার অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’—প্রতিটি ধারাবাহিকেই দেখবেন আমার চরিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমিও চেষ্টা করি কোনো নির্মাতা যেন ফেঁসে না যান সেদিকে খেয়াল রাখতে। প্রতি মাসে কোনোটির তিন দিন আবার কোনোটির চার দিন শিডিউল অবশ্যই দিতে হয়।

এতেই নির্মাতারা ম্যানেজ করে নিতে পারেন।

এই সময়ের অভিনেত্রীরা একক নাটকে বেশি মনোযোগী। আপনি ধারাবাহিকে ঝুঁকলেন কেন?
আসলে ধারাবাহিকের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের সঙ্গে কানেক্টেড থাকা যায়। সেই ‘সংশপ্তক’, ‘আজ রবিবার’ বা ‘রঙের মানুষ’, ‘সাকিন সারিসুরি’র কথা কিন্তু এখনো মানুষ মনে রেখেছে। এর মধ্যে তো কত একক নাটক এলো-গেলো কিন্তু ‘নুরুলহুদা একদা ভালোবেসেছিল’ এটার কথা কি কেউ ভুলতে পেরেছে বলেন? আমি যে ধারাবাহিকগুলো করছি সেগুলোর গল্প পছন্দ হয়েছিল বলেই নির্মাতাদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখবেন, এই ধারাবাহিকগুলোর প্রত্যেকটিই দর্শক পছন্দ করছে। যার কারণে প্রতিটিরই পর্ব বাড়ানো হচ্ছে।

রেডিও জকি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। এই মাধ্যমটাকে মিস করেন?
যত দিন রেডিওটা শোনার মাধ্যম ছিল তত দিন এখানে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। এখন রেডিওটা দেখার মাধ্যম হয়ে গেছে। হয়তো যুগের চাহিদার কারণেই এমনটা হয়েছে। রেডিও আমাকে আর টানে না। যদি কখনো টানে তখন ভেবে দেখব।

‘কাগজ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছিল। ‘আজব কারখানা’ও করেছিলেন। পরে আর কোনো চলচ্চিত্রের খবর দেননি।
আমি যে ধরনের গল্প পছন্দ করি সেগুলো পাচ্ছি না। যে সব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই সেগুলো নায়ককেন্দ্রিক। সেখানে আমার করার কিছু থাকে না। কয়েকটি সরকারি অনুদানের ছবিরও প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তবে আমাকে যে চরিত্রে নির্মাতারা ডাকেন সেটা পছন্দ হয় না। অপেক্ষায় আছি ব্যাটে-বলে মেলার। যদি মেলে তাহলে আবার আমাকে বড় পর্দায় পাবেন।

‘ভাগ্যরেখা’ দিয়ে ওটিটিতেও অভিষেক হয়েছিল। সেখানেও তো কাজ করছেন না?
এই মাধ্যমে যারা কাজ করেন দেখবেন তাঁদের একটা সার্কেল আছে। আমি সিন্ডিকেট বলব না, হয়তো তাঁরা নিজেদের মধ্যে কাজ করতে পছন্দ করেন। এর বাইরে যারা ওয়েব সিরিজ-ছবি নির্মাণ করেন তাঁদের গল্প পছন্দ হচ্ছে না। আমি আসলে নারীদর গল্প খুব পছন্দ করি। যেটা আমাদের দেশে হয় না বললেই চলে। যদি এমন গল্প পাই তাহলে অবশ্যই করব।

বিজ্ঞাপনচিত্রের ব্যস্ততা কেমন?
এটা আমার জন্য খুব কমফোর্ট একটা জোন। এখানে কাজ করে শান্তি পাই। ২০১৮ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের হাত ধরে বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম, পণ্যটি ছিল রাঁধুনী গুঁড়া মসলা। আমার প্রথম নাটক ‘আয়েশা’র পরিচালকও কিন্তু ফারুকী ভাই। যাহোক, কিছুদিন আগে নতুন বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছি। হাতে আরো বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের কাজ আছে। সেগুলোও করব শিগগির।

LEAVE A REPLY