সুদানে সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, বহু নিহতের আশঙ্কা

ছবিসূত্র: এএফপি

সুদানের রাজধানী খার্তুমের উপকণ্ঠে আবাসিক এলাকায় একটি সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বৃহত্তর খার্তুমের উত্তরাঞ্চলীয় ওমদুরমানের ওয়াদি সেইদনা সামরিক উড়োজাহাজবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়।

সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, উড়োজাহাজ দুর্ঘটনাটি সম্ভবত কারিগরি কারণে ঘটেছে।

খার্তুমের একজন সিনিয়র কমান্ডার মেজর-জেনারেল বাহর আহমেদ নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর সঙ্গে যুদ্ধরত সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, সামরিক কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপক দল দুর্ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।’ উত্তর ওমদুরমানের বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় একটি বিকট বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

সুদানজুড়ে সাহায্য সমন্বয়কারী স্বেচ্ছাসেবকদের একটি নেটওয়ার্কের অংশ কারারি রেজিস্ট্যান্স কমিটি জানিয়েছে, ওমদুরমানের আল-নাও হাসপাতালে ১০টি মৃতদেহ এবং বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। এএফপি সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য বলা হয়েছে।

সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামাদান দাগলোর মধ্যে সরকারের ভবিষ্যত কাঠামো নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ার পর সুদানে যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনী বর্তমানে আরএসএফের বিরুদ্ধে বহুমুখী আক্রমণে মধ্য সুদান এবং খার্তুমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে।

দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালায় রাশিয়ার তৈরি ইলিউশিন উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার দায় আরএসএফ স্বীকার করার একদিন পরই এই উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আরএসএফ এবং তার মিত্ররা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর ‘আরো তীব্রতর’ পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

জাতিসংঘ বলেছে, এই সংঘাত ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে উৎখাত করেছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট দেখা দিয়েছে দেশটিতে। 

সূত্র: আলজাজিরা

LEAVE A REPLY