উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন কন্যা কিম জু এ-কে সঙ্গে নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। তিনি বুধবার অনুষ্ঠিতব্য চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন।
‘ভিক্টরি ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এ কুচকাওয়াজে কিমের পাশাপাশি থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কিম তার সাঁজোয়া ট্রেনে চীন প্রবেশ করেন। সোমবার পিয়ংইয়ং থেকে যাত্রা শুরু করা ট্রেনটির ভারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় এর গতি ছিল ধীর।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিং রেলস্টেশনে নামার সময় কন্যা কিম জু এ-কে পাশে দেখা যায় তাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএস জানিয়েছে, কিম জু এ-কে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও তার বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ২০২৩ সালে এনআইএস জানিয়েছিল, তার বয়স আনুমানিক ১০ বছর।
চীনের এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানি আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে। এটি শি জিনপিংয়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছেন।
৭০ মিনিটব্যাপী এ কুচকাওয়াজে চীনের সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে শত শত বিমান, ট্যাংক ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। প্রথমবারের মতো চীনের নতুন সামরিক কাঠামোও উন্মোচিত হবে এ প্রদর্শনীতে।
এতে অংশ নিচ্ছেন আরও ২৬ জন রাষ্ট্রপ্রধান। তাদের মধ্যে ইরান, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নেতারা রয়েছেন। একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগ দেবেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। বুলগেরিয়া ও হাঙ্গেরি প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে।
কিম জং উনের এ সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কয়েক দশক পর কোনো উত্তর কোরীয় নেতা চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন। সর্বশেষ ১৯৫৯ সালে কিম ইল সুং এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
২০১৫ সালের ভিক্টরি ডে কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া শুধু একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, চোয়ে রিয়ং হে-কে পাঠিয়েছিল। এবার কিম নিজে উপস্থিত হওয়ায় চীন-উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিম জং উনের বিদেশ সফর অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর বৈঠক সীমিত ছিল মূলত পুতিনের সঙ্গে, যার সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৯ সালে চীন সফর করেছিলেন।
কিম পরিবারের ট্রেনে ভ্রমণের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। দাদা কিম ইল সুং ভিয়েতনাম ও পূর্ব ইউরোপ সফরে ট্রেন ব্যবহার করেছিলেন। তার বাবা কিম জং ইলও একইভাবে ভ্রমণ করতেন, কারণ তিনি বিমানে ভ্রমণে ভীত ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উনের সাঁজোয়া ট্রেনে প্রায় ৯০টি বগি রয়েছে, যাতে সম্মেলনকক্ষ, অডিয়েন্স হল, শয়নকক্ষসহ নানা বিলাসবহুল সুবিধা আছে।










































