ছবিসূত্র : মার্কিন নৌ ইনস্টিটিউট।
২০২৪ সালে সামোয়ার উপকূলে রয়্যাল নিউজিল্যান্ড নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দেশটি সামোয়া সরকারকে ১ কোটি সামোয়া টালা (প্রায় ৩.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি ছিল নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ডাইভিং ও হাইড্রোগ্রাফিক জাহাজ ‘এইচএমএনজেডএস মানাওয়ানুই’। নিউজিল্যান্ড সরকার সোমবার এই খবর জানিয়েছে।
সামোয়া হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যা পলিনেশিয়ার অংশ।
এটি মূলত ৯টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে দুটি বৃহত্তম দ্বীপ হলো সাভাই’ই এবং উপোলু। এই দেশটি নিউজিল্যান্ডের প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ১৭৫৬ সালে ফরাসি লেখক শার্ল দ্য ব্রস সর্বপ্রথম ‘পলিনেশিয়া’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেন। তিনি এটি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের সবগুলো দ্বীপকে বুঝিয়েছিলেন।
জাহাজটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সামোয়ার উপোলু দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে প্রবালপ্রাচীর জরিপের সময় তীরে আঘাত করে। ক্রুরা জাহাজ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরে সেটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। তবে জাহাজে থাকা ৭৫ জন নাবিকই প্রাণে বেঁচে যান। দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মানুষের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এক বিবৃতিতে বলেন, সামোয়া সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর জন্য যে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, তা আমরা স্বীকার করছি।’
জাহাজ মানাওয়ানুই এখনো প্রবালপ্রাচীরের ওপর অবস্থান করছে। তবে উদ্ধারকারীরা এর ভেতর থেকে ডিজেল, তেলসহ দূষণকারী পদার্থ, সরঞ্জাম, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মালামালের কনটেইনারগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
পিটার্স আরো জানান, জাহাজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিউজিল্যান্ড ও সামোয়া সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তার ভাষায়, ‘সামোয়া সরকারের সঙ্গে একযোগে আমরা পরিবেশগত প্রভাব যতটা সম্ভব কমানো এবং প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থায় সহায়তা করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এগুলোই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
সূত্র : রয়টার্স










































