মাঠের বাইরে সরগরম ক্রিকেট

জাতীয় দলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কোচের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাঁয়ে)। ফাইল ছবি

দুঃখ করে বাংলাদেশ দলের সাবেক এক অধিনায়ক গতকাল বলছিলেন, ‘অন্যান্য দেশের দিকে তাকান। দেখবেন, সেখানে এক বা একাধিক খেলোয়াড় পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের ক্রিকেটটাকে সব সময় আলোচনায় রাখে। আমাদের সেই পারফরম্যান্স নেই, কিন্তু আলোচনা ঠিকই আছে।’ তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা-ও অস্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্স এখন তলানিতে থাকলেও আলোচনার বিষয়বস্তুর যে অভাব নেই, কোনো। মূলত নানামুখী সমালোচনার তোড়ে মাঠের বাইরেই ক্রিকেট এখন বেশি সরগরম। আর ক্রিকেটের লোকেরাই সেসব সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন একে অন্যকে। দিগ্বিদিক তীর ছোড়াছুড়িতে অবস্থা এমন যে চলতি মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলকও আলোচনায় ঢুকে পড়তে বেগ পাচ্ছে।

মাঠের বাইরে সরগরম ক্রিকেট

বরং মাঠের বাইরের নানা ইস্যু নেতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠিত করছে। এ জন্য সম্ভবত পদত্যাগে হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে চেয়েছেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন! আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষে তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না জানিয়ে দেওয়া বিসিবির বিবৃতিতে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘তিনি আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষে পদত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে আরো কোনো মন্তব্য করার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব।’ এখানেই শেষ হলে কথা ছিল; কিন্তু আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সালাউদ্দিনের পদত্যাগের যোগসূত্রও খোঁজা চলছে।আবার আশরাফুলের ব্যাটিং কোচ হওয়ার খবরে সরব হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেন। নামোল্লেখ না করলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার স্ট্যাটাসে যে তিনি ঢিল ছুড়েছেন আশরাফুলের দিকে, সেটিও বুঝতে কারো বাকি থাকেনি।

রুবেলের লক্ষ্যবস্তু স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে আশরাফুলের নিষিদ্ধ হওয়ার অতীত, ‘যে মাঠ একসময় বিশ্বাস হারিয়েছে, সেই মাঠেই আবার শিক্ষা দিতে আসা। জীবনটা আসলে সিনেমা। সময় সত্যিই অদ্ভুত! যাদের একসময় উদাহরণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজ (তারা) উদাহরণ দিতে এসেছে!’ ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিজের পরিকল্পনার চেয়ে সংবাদমাধ্যমে আশরাফুলের এই বক্তব্যই অবশ্য বাজার পেয়েছে বেশি, ‘আমার জীবনে যা হয়েছে, তা আমি প্রকাশ্যে শিকার করেছি।

ওই পর্ব শেষ করেই আমি এখানে। এমন নয় যে দুনিয়াতে শুধু আমি একাই এসব করে শাস্তি পেয়েছি।’ আশরাফুল অতীতে যা করেছেন, আসন্ন বিপিএলেও সে রকম কিছুর শঙ্কায় আগাম আর্তনাদ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিউ ইয়র্কপ্রবাসী জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য, ‘প্রিয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, আসন্ন বিপিএলেও ম্যাচ ফিক্সিং বন্ধে আপনারা কিছুই করতে পারলেন না। আমি শুনেছি, ভুল লোকদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি ভুল দলকে আপনারা বেছে নিয়েছেন। যদি এটি সত্যি হয়, তাহলে আপনারা কখনোই ম্যাচ ফিক্সিং এড়িয়ে যেতে পারবেন না এবং তাতে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট চিরতরে শায়িত হয়ে যাবে। প্লিজ, আমাদের ক্রিকেটটাকে এই ভূতদের হাত থেকে বাঁচান।’ এদিকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়ে ফেরা নারী জাতীয় দল নিয়েও বিতর্কের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। অধিনায়ক নিগার সুলতানাসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে তাঁর বিস্তর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিসিবি অবশ্য আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এত এত আলোচনা-সমালোচনার ভিড়ে মাঠের ক্রিকেটটা কোথায়, একই সঙ্গে উচ্চকিত হচ্ছে এই প্রশ্নও।

LEAVE A REPLY