সংগৃহীত ছবি
ব্যাট হাতে লিটনের রুদ্রমূর্তি অনেকবার দেখা গেলেও এবার সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেলো বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে দলে শামীম হোসেনের বাদ পড়া ও অধিনায়কের সঙ্গে নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা গেল লিটনের কথায়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুটা ঠাণ্ডা মেজাজেই শুরু করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক। সিরিজ থেকে চাওয়ার বিষয়ে লিটন বলেছেন, তিনি চান খেলোয়াড়রা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ুক।
এই সিরিজে তাদের চেষ্টা থাকবে কঠিন অবস্থা থেকে ম্যাচ নিজেদের করে আনা।
দলের সক্ষমতায় আস্থা রেখে লিটন জানান, বিশ্বকাপের আগে তিন বিভাগেই উন্নতির জায়গা আছে। বিশেষ করে ফিল্ডিং আরও ভালো করতে পারলে সেটা বাংলাদেশের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট হবে।
তবে মিডল অর্ডার নিয়ে খুব চিন্তিত নন অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘শেষ কয়েকটা সিরিজে আমাদের প্লেয়াররা আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারেননি মিডল অর্ডারে। তবে তারা প্রমাণিত খেলোয়াড়। কিছু সিরিজ খারাপ যেতেই পারে। আমি নিশ্চিত, তারা ফিরে আসবেন—আশা করি এই সিরিজেই।
’
এরপর আর কিছু প্রশ্নোত্তরের পর আসে দলে শামীম পাটোয়ারীর না থাকার প্রসঙ্গ। সর্বশেষ তিন ম্যাচে মাত্র ২ রান করায় এ নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ দেখান লিটন দাস।
তিনি বলেন, ‘দেখেন, থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। ইটস নট মাই কল, টোটালি সিলেক্টরস কল। আমি জানি না কেন, তবে নির্বাচকরা আমাকে কোন কিছু নোটিশ করা ছাড়াই শামীমকে বাদ দিয়ে দিয়েছে টিম থেকে উইদাউট এনি নোটিশ।
আমি এতদিন জানতাম যে একটা দল যখন কেউ হ্যান্ডল করে, অন্তত অধিনায়ক জানে যে কোন ক্রিকেটার কখন দলে আসবে, কখন বাইরে যাবে।’
নির্বাচকদের সঙ্গে দূরত্ব নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাকে টোটালি বলা হয়েছে সিলেক্টর প্যানেল থেকে এবং বোর্ড থেকে যে আমাকে যে টিমটা দেওয়া হবে আমাকে সেই টিমটা নিয়েই কাজ করতে হবে। সো আমার কোন সে থাকবে না যে আমি কোন প্লেয়ারটাকে চাই কোন প্লেয়ারটাকে না চাই। এতদিন জানতাম যে এজ এ যখন ক্যাপ্টেন হয় মানুষ তার একটা টিম গোছানোর একটা প্ল্যানিং থাকে। বাট রিসেন্ট কয়েকদিন থেকে জানতে পারলাম যে যে টিমটা আমাকে দেওয়া হবে আমার কাজ হচ্ছে সেই টিমটা নিয়ে বেটার কিছু দেওয়া মাঠে।’
দল নির্বাচনে মতামত না রাখাটা অধিনায়কের জন্য ‘অপমানজনক’ কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে লিটন বলেন, ‘ইনসালটিং এর জায়গাটা বলব না। আমার মনে হয় কোচ এবং ক্যাপ্টেনের জানা উচিত। সে জায়গা থেকে আমরা কিছুই জানি না। যদি ওয়ার্ল্ড কাপেও সেম জিনিস ঘটে আমাকে যে টিমটা দেওয়া হবে আমি সেই টিমটা নিয়েই চেষ্টা করব।’
শামিমের বাদ পড়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘(এই ঘটনা) টিমকে হয়তো ডিস্টার্ব করবে না, তবে এটা হতাশাজনক। আপনি প্রত্যেক ক্রিকেটারের কাছে প্রতি সিরিজে পারফরম্যান্স আশা করতে পারবেন না। আমরা চেষ্টা করেছি এতদিন ধরে দলটা গোছানোর জন্য। শামীম কিন্তু দুই-তিনটা সিরিজে খুব ভালো অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে, যেটা আমাদের দরকার ছিল। সে ক্ষেত্রে থেকে বাদ পড়াটা শামীমের জন্য হতাশাজনক।’
অধিনায়ক হিসেবে আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত ব্যাটার শামীমের পাশে থাকতে না পারা, তাকে ভরসা জুগিয়েই রাখতে না পারাটা প্রবলভাবেই পোড়াচ্ছে লিটনকে। তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে, আমি সরি। আর কিছুই বলতে পারব না তাকে। কারণ আমি কখনোই এক্সপেক্ট করি না, আমার ১৫জন ক্রিকেটার প্রতিদিনই পারফর্ম করে দেবে। দুই-তিনটা সিরিজে যখন পারফর্ম করবে না, তার পাশে আমার থাকা উচিত। আমি সত্যিই সরি যে, আমি তাকে ব্যাক করাতে পারিনি।’
দায়িত্ব নেওয়ার সময় পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি ছিল কিনা—এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘না, এ রকম কোনো বিষয় না।’
লিটনের অধিনায়কত্ব ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে লিটনের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘ওটা পরে দেখা যাবে।’











































