সংগৃহীত ছবি
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই যার উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ত, তিনি ফারজানা রিয়া চৌধুরী। মডেল ও নৃত্যশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত হলেও অভিনয় ও উপস্থাপনাতেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকতেই হঠাৎ করেই শোবিজের আলো ঝাপসা করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। ২০১৩ সাল থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন রিয়া।
এখন স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত, শান্ত এক প্রবাসজীবনই তার নিত্যদিন।
সম্প্রতি স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন এই নব্বইয়ের তারকা। দীর্ঘদিন পর ঢাকার এক ঘরোয়া আড্ডায় তার উপস্থিতি চোখে পড়তেই নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন অনেকেই। সেই আড্ডার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কৌতূহল বাড়তে থাকে—কেমন আছেন আড়ালে থাকা সেই পরিচিত মুখ?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন রিয়া।
বাংলাদেশে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করেন। দেশে ফিরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সোবহানবাগের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আড্ডায় অংশ নেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান, মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ, বিশ্বরঙ ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার বিপ্লব সাহা এবং নৃত্যশিল্পী তান্না খান। মূলত রিয়ার দেশে আসাকেই কেন্দ্র করে এই আড্ডার আয়োজন।
জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন তিনি।
রিয়ার মিডিয়া যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে, কোকোলা বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল তাঁর। বুলবুল একাডেমিতে নৃত্যশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাভিশনে প্রচারিত নৃত্যভিত্তিক রিয়ালিটি শো ‘নাচো, বাংলাদেশ নাচো’-এর বিচারকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
মডেলিংয়ে রিয়া ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল। পেইলাক পেইন্টস, হাঁস মার্কা নারিকেল তেল, মেরিল ভেসলিনসহ একাধিক বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে ‘কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি…’—এই জিঙ্গেলের বিজ্ঞাপনটি, যেখানে পল্লবের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি আজও অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়েও যুক্ত হন রিয়া। উপস্থাপনা করেন বাংলাভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘সৌন্দর্য কথা’। নাটকে তিনি ছিলেন বেছে বেছে কাজ করা শিল্পী। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে খেলা খেলা সারাবেলা, মেট্রোপলিটন, কাগজের নৌকা ও নেকি।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৮ সালে বৈমানিক মিনহাজকে বিয়ে করেন রিয়া, তবে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। পরে ২০১৩ সালের মার্চে আমেরিকাপ্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইভান চৌধুরীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি। এই বিয়ের পরই অভিনয় ও মডেলিং থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন রিয়া।
এক সময়ের আলো ঝলমলে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও নব্বইয়ের দর্শকের স্মৃতিতে ফারজানা রিয়া চৌধুরী আজও এক আলাদা জায়গা জুড়ে আছেন—নীরবে, আড়ালে, কিন্তু ভোলার নয়।









































