সংগৃহীত ছবি
বর্তমান শহুরে জীবনে কৃত্রিম আলোর জগতে কাটে আমাদের সময়। অনেক ক্ষেত্রে দিনের আলো দেখাই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তবে দিনের প্রাকৃতিক আলোতে কিছুটা সময় ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউনিজ) সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে দিনের প্রাকৃতিক আলো।
পাশাপাশি দৈনিক দিনের আলোতে কিছুটা সময় কাটালে দেহের বিপাকীয় কার্যক্রম ও জৈবিক ঘড়িও (সার্কাডিয়ান চক্র) সমন্বয় হয়। যা ঘুমের জন্য সহায়ক।
যৌথভাবে পরিচালিত এই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, প্রাকৃতিক আলোতে থাকা ব্যক্তিদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকে এবং এর ওঠানামাও তুলনামূলকভাবে কম হয়।
এ ছাড়া, প্রাকৃতিক আলোতে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধ্যাবেলায় মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা ঘুমের জন্য সহায়ক।
পাশাপাশি শরীরে চর্বি কমানোর নিজস্ব প্রক্রিয়া বা ফ্যাট অক্সিডেটিভ মেটাবলিজমও উন্নত হয়।
সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর প্রাকৃতিক আলোর ইতিবাচক প্রভাবের প্রথম প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইউনিজের সহযোগী অধ্যাপক চার্না ডিবনার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জানা গেছে, দেহের সার্কাডিয়ান চক্র বা জৈবিক ঘড়ির ব্যাঘাত বিপাকীয় রোগ সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে।’
গবেষণার অংশ হিসেবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নেওয়া হয়।
তাদের চার দিনের বেশি সময় ধরে প্রথম পর্যায়ে প্রাকৃতিক আলো আসে এমন একটি রুমে রাখা হয়। এরপর চার সপ্তাহ বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের কৃত্রিম আলোর নিচে রাখা হয়।
গবেষকরা স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ত ও পেশির নমুনা সংগ্রহ করে বিপাকীয় পরিবর্তন, জিনের কার্যক্রম এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির (সার্কাডিয়ান চক্র) কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন।
চমকপ্রদভাবে দেখা যায়, আলোর কারণে তাদের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি (সার্কাডিয়ান চক্র) ও বিপাকীয় কার্যক্রম পরিবর্তিত হয়। এ সময় যারা প্রাকৃতিক আলোর নিচে ছিলেন তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল।










































