মানুষ জীবনে কতবার প্রেমে পড়ে?

সংগৃহীত ছবি

মানুষ কতবার প্রেমে পড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেউ বিজ্ঞান টেনে আনেন, কেউ বা সাহিত্যের আশ্রয় নেন। আসলে প্রেমে পড়ার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা ব্যাকরণ আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।

আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গড়ে একজন মানুষ জীবনে অন্তত দুইবার সত্যিকারের প্রেমে পড়েন। তবে এই হিসাব সবার জন্য এক নয়।

কেউ বিশ বছর বয়সেই ছয়-সাতবার ‘পাগলের মতো’ প্রেমে পড়ার দাবি করেন, আবার কেউ পঞ্চাশ পেরিয়েও ঠিক কতবার প্রেমে পড়েছেন তার হিসাব মেলাতে পারেন না।

প্রেমে পড়ার নেপথ্যে কী কাজ করে?
মনোবিদদের মতে, প্রেমে পড়াটা অনেকটা মস্তিষ্কের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মতো। যখন আমরা কারো প্রতি আকৃষ্ট হই, তখন মস্তিষ্কে ‘ডোপামাইন’ বা হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি এক ধরনের নেশার মতো কাজ করে।যারা বারবার প্রেমে পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে এই হরমোনের প্রভাব বেশি থাকতে পারে। অনেকে আবার একাকিত্ব বা নিরাপত্তাহীনতা থেকে বাঁচতে বারবার নতুন মানুষের সঙ্গ খোঁজেন।

গল্প যখন অভিজ্ঞতার,
একেক মানুষের কাছে প্রেমের সংজ্ঞা একেক রকম। যেমন—

তরুণ প্রজন্মের ভাবনা : ২৫ বছর বয়সী ঋতিকা তিনবার প্রেমে পড়ার পর ঠিক করেছেন আর এই পথে হাঁটবেন না।

বারবার একই ভুল করে তিনি এখন ক্লান্ত। অন্যদিকে, নৃত্যশিল্পী অবন্তিকা মনে করেন, প্রতিবারই তিনি পাগলের মতো প্রেমে পড়েন এবং নতুন প্রেম এলে আগেরগুলো ফিকে হয়ে যায়।

পরিণত বয়সের দর্শন : ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক কুশল দত্ত মনে করেন, প্রেমে পড়ার মুহূর্তগুলোর চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই। আঘাত পেলেও প্রেমের সেই অনুভূতিগুলো জীবনকে রাঙিয়ে দেয়।

বিজ্ঞান ও সমাধান
বারবার ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে আঘাত পাওয়াকে অনেকেই সুকুমার রায়ের সেই ‘ন্যাড়া বারবার বেলতলায় যায়’ গল্পের সঙ্গে তুলনা করেন।

মনোবিদরা বলছেন, এই চক্র থেকে বের হতে হলে নিজেকে সময় দেওয়া জরুরি। একা থাকতে না পেরে বা শুধু আকর্ষণের কারণে সম্পর্কে জড়ানো কোনো সমাধান নয়। অন্যকে ভালোবাসা দেওয়ার আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখলে বারবার ‘বেলতলায়’ যাওয়ার ভয় থাকে না।

তবে দিনশেষে জীবনটা গণিত নয়। কতবার প্রেমে পড়লে জীবন সার্থক হবে, তার উত্তর কোনো বইয়ে লেখা নেই। তাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই হয়তো মনে করেন— ‘ভালোবাসাকেই ভালোবাসা দিয়ে যাব’। বেলতলায় কী ঘটবে সেই ভয় না করে বারবার ভালোবাসার পথে হাঁটাই অনেকের কাছে জীবনের সার্থকতা।

সূত্র : আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY