আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে : স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প

চবিসূত্র : রয়টার্স

স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অর্থনৈতিক রেকর্ডের কথা তুলে ধরেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি গর্ব করে জানান, তিনি একটি ‘স্বর্ণযুগের’ সূচনা করেছেন। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ক্যাপিটল ভবনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস চেম্বার থেকে আজ বুধবার শুরু করা স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আগের চেয়ে বড়, আরো উন্নত, আরো সমৃদ্ধ এবং যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী।’ নির্বাচনী প্রচারণার সময়ের পরিচিত বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়ে গেছে।”

চলতি বছরের শেষ দিকে উদ্‌যাপিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শাসনামলকে ‘যুগান্তকারী পরিবর্তনের সময়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ।

প্রথা অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের যৌথ অধিবেশনে তিনি এ ভাষণ প্রদান করছেন।

ট্রাম্প যদিও ঘোষণা করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি ‘হ্রাসমান’, তবুও মুদিখানা, আবাসন, বীমা এবং ইউটিলিটি পণ্যের দাম কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শুক্রবার প্রকাশিত নতুন তথ্যে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ধীরগতির হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ট্রাম্প বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন।

তিনি বেশিরভাগ সময় লিখিত বক্তব্য অনুসরণ করেন এবং তার স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক মন্তব্য থেকে বিরত ছিলেন। ট্রাম্প যখন তার প্রিয় বিষয় অভিবাসন প্রসঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত একই ধরনের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন।

তিনি দাবি করেন, নথিবিহীন অভিবাসীরাই সহিংস অপরাধের জন্য দায়ী। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ দাবি সঠিক নয়।

তিনি ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

’ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর অভিযানের লাগাম টানার ব্যবস্থা না নিলে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি ডেমোক্র্যাটদের ভর্ৎসনা করেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, মিনিয়াপোলিসে মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর বেশিরভাগ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের অভিবাসন দমননীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্প যখন তার অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের প্রশংসা করছিলেন, তখন মিনিয়াপোলিসের একটি আসনের প্রতিনিধি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর তার দিকে চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি আমেরিকানদের হত্যা করেছেন!’

ট্রাম্প বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন, যা প্রমাণিত নয়। তিনি ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে সমর্থন না দেওয়ার জন্যও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ওরা প্রতারণা করতে চায়।’ ডেমোক্র্যাটদের দাবি, রিপাবলিকান-সমর্থিত এ আইন ভোটারদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করবে এবং ভোটদানে অংশগ্রহণ কমিয়ে দেবে।

এদিকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো হাউস চেম্বার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি আল গ্রিনকে। তিনি ট্রাম্পের দিকে একটি সাইনবোর্ড নাড়ান। সেখানে লেখা ছিল, ‘কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ বানর নয়।’ এটি ছিল এই মাসে ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ভিডিওর প্রতিবাদ। ওই ভিডিওতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে বানরের সঙ্গে তুলনা করে দেখানো হয়েছিল।

পরে হোয়াইট হাউস ভিডিওটি সরিয়ে ফেলে। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি নিজে ভিডিওটি পোস্ট করেননি, একজন কর্মী এটি পোস্ট করেছিলেন। ৭৯ বছর বয়সী আল গ্রিন গত বছরও কংগ্রেসে ট্রাম্পের ভাষণের সময় চিৎকার করায় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এদিন আরো কয়েকজন ডেমোক্র্যাট ভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানান। হাওয়াইয়ের প্রতিনিধি জিল টোকুদা সাশ্রয়ী মূল্য ও স্বাস্থ্যসেবা লেখা একটি সাদা জ্যাকেট পরেন।’

কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নারী সদস্য ‘ফাইল প্রকাশ করুন’ লেখা ব্যাজ পরেন। এটি জেফ্রি এপস্টাইনকে ঘিরে বিতর্কের ইঙ্গিত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কয়েকজন নারী ওই দিন ডেমোক্র্যাটদের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ৪০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের ভাষণ বয়কট করে বাইরে সমাবেশে যোগ দেন।

সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY