দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় মেগাস্টার থালাপতি বিজয় ২৭ বছরের দাম্পত্যে ফাটল ধরার খবরে সামাজিক মাধ্যমের নেটিজেনদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রে। বিজয় থালাপতি কিংবা সংগীতা সোর্নালিঙ্গম— কেউ-ই আজ পর্যন্ত বিচ্ছেদের খবরে সিলমোহর দেননি। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি— বিচ্ছেদ নয়; বরং ব্যক্তিগত কারণে সংগীতা দূরে আছেন। যদিও শোনা গেছে, তাদের বিবাহবিচ্ছেদ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
কিন্তু বিজয় যতটা প্রচারের আলোয় থাকেন, তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গম ঠিক ততটাই আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি তারকাপত্নীকে নিয়েই এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। এর মধ্যে মহাতারকার দাম্পত্য জীবনের চিড় কি তার সদ্য শুরু হওয়া রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব পড়বে? এমনটিই প্রশ্ন এখন নায়কের ভক্তমহলে।
সম্প্রতি তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানানোর পরই তৈরি হচ্ছে এসব নিয়ে আলোচনা। রুপালি পর্দার আদর্শবাদী নায়ক এবং ব্যক্তিজীবনের সুশৃঙ্খল ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ পুঁজি করে বিজয় যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে চেয়েছিলেন, এই বিচ্ছেদ সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা— তামিলনাড়ুর সাধারণ ভোটারদের কাছে একজন নেতার ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজয়ের ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোতে তাকে সামাজিক ন্যায়বিচারের পাশাপাশি নারী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে দেখা যায়। তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ মূলত সেই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ডিভোর্সের খবরে সেই ভাবমূর্তি এমন সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে, যা বয়স্ক ও রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বিজয়ের লড়াইটা এখন কঠিন। বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের সঙ্গে যদি পরকীয়া কিংবা অনৈতিকতার কোনো অভিযোগ সামনে আসে, তবে তার কট্টর অনুসারীদের আস্থায় চিড় ধরা স্বাভাবিক। তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন— রাজ্যের তরুণ ভোটাররা। জেন-জি কিংবা তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে তার রাজনৈতিক আদর্শ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তামিল গর্বের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তারা মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ কখনই একজন নেতার রাজনৈতিক যোগ্যতা বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে— এমজি রামচন্দ্রন বা জয়ললিতার মতো মহাতারকারাও ব্যক্তিগত ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই বাধা কাটিয়ে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। বিজয় কি পারবেন বাস্তবজীবনের এই নাটকীয়তা সামলে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ঠিক রাখতে?
আগামী কয়েক মাস তার ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় হতে চলেছে। পর্দার ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি হিসেবে পরিচিত বিজয় মাঠের রাজনীতিতে এই বিচ্ছেদ-ঝড় সামাল দিতে পারেন কিনা, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।











































