হীরার ট্রেন্ড ভেঙে সোনায় মোড়া বিয়ে /৩ কেজি সোনার গয়না পরেছিলেন রাশমিকা

সংগৃহীত ছবি

আধুনিক ডায়মন্ড ট্রেন্ড থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের অনুপ্রেরণায় তৈরি সোনার গয়নায় নিজেদের বিয়েকে অনন্য করে তুলেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রী বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাদের এই বিয়ের গয়নার সংগ্রহ এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। তবে এটি শুধু আরেকটি তারকাখচিত বিয়ে ছিল না।

বরং প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং দুই মানুষের আন্তরিক আনন্দে ভরা এক বিশেষ আয়োজন ছিল তাদের এই বিয়ে।

‘বিরোশ’—যা বিজয় ও রাশমিকার নাম মিলিয়ে তৈরি—এই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের আদলে তৈরি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড সোনার গয়নার এক অসাধারণ সংগ্রহ। হায়দরাবাদের শ্রী জুয়েলার্স এই গয়নাগুলো তৈরি করেছে। ধারণা থেকে নকশা, তারপর একাধিক ট্রায়াল—সব মিলিয়ে পুরো সংগ্রহটি প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ মাস।

এতে ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক কেজি সোনা।

May be an image of smiling

তবে এই গয়নাগুলোর বিশেষত্ব শুধু আকার বা জাঁকজমকে নয়। এখনকার সময়ে যেখানে কনের সাজে হীরা, আন্তর্জাতিক ধাঁচের ডিজাইন ও ট্রেন্ডি গয়নার প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেখানে এই তারকা জুটি বেছে নিয়েছেন শিকড়ের কাছাকাছি কিছু। 

রাশমিকাকে কল্পনা করা হয়েছিল এক ‘জীবন্ত দেবী’ হিসেবে, আর বিজয়কে ‘সার্বভৌম রাজা’ রূপে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের গয়না শুধু সাজের অংশ ছিল না—পুরো গল্প বলার কেন্দ্রবিন্দুই ছিল এই অলংকার।

দেবীরূপী কনে

রাশমিকার বিয়ের সাজে ছিল ১১টি প্রধান সোনার অলংকার, যেগুলো দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি এবং তার কমলা-লাল আভাযুক্ত আনামিকা খান্না শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে ডিজাইন করা হয়েছিল।

তার গলার অলংকারই ছিল পুরো সাজের কেন্দ্র। কলারবোনের কাছে বসানো ছিল লক্ষ্মী মূর্তির নকশা করা ‘নাক্ষি’ কারুকাজের একটি চোকার। এরপর স্তরে স্তরে ছিল ‘কাসু মালা’, যেখানে ক্ষুদ্র লক্ষ্মী মুদ্রার নকশা সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে খোদাই করা।

পাশাপাশি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মন্দির স্টাইলের ‘হারাম’ গলায় সাজানো ছিল। সবশেষে একটি লম্বা মন্দির-চেইন শাড়ির আঁচল জুড়ে নেমে এসে পুরো অবয়বকে আরও দীর্ঘ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে।

May be an image of wedding

গয়নাগুলোর প্রতিটি অংশে ছিল গভীর নাক্ষি খোদাই এবং ‘রাভা গ্রানুলেশন’—যা সূক্ষ্ম টেক্সচার তৈরি করে সোনার গয়নায় কোমলতা ও গভীরতা যোগ করে। এগুলোর ফিনিশ ছিল অ্যান্টিক ম্যাট, উজ্জ্বল পালিশ নয়। ফলে গয়নাগুলো নতুনের চেয়ে বরং বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করা পুরনো অলংকারের অনুভূতি দেয়।

মুখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ডিজাইনাররা ব্যবহার করেছেন ঐতিহ্যবাহী মাথাপট্টি ও ‘চাম্পাসারালু’ হেয়ারলাইন চেইন দিয়ে তৈরি এক ধরনের ‘টেম্পল জুয়েলারি হ্যালো’। এর সঙ্গে ছিল একটি সূক্ষ্ম সোনার নাকফুল। উপরের বাহুতে দেবী মোটিফের ‘বাজুবন্ধ’, চুলের বেণিতে ‘জাডা বিল্লা’ অলংকার এবং কোমরে ‘কামারবন্দ’—সব মিলিয়ে প্রতিটি গয়নাই আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে।

গয়নার মূল্য

এই বিয়ের গয়নার নির্দিষ্ট দাম এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় তিন কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মোট মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৭ কোটি রুপিরও বেশি।

যদিও এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি এবং কেবল আনুমানিক হিসাব হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবু নিখুঁত কারুকাজে তৈরি এই সময়হীন ‘বিরোশ’ গয়নার জাঁকজমক ও ঐতিহ্য যে অনস্বীকার্য—তা বলাই যায়।

LEAVE A REPLY