তেল রপ্তানি শুরুর প্রশ্নে বিভক্ত ইরাক

সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা চরমে। শুধু তা-ই নয়, ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিও। এর মধ্যে তেল রপ্তানি শুরু করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানাল ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করে তেল রপ্তানিতে শর্তারোপ করেছে দেশটির কুর্দি আঞ্চলিক প্রশাসন।

রবিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরাকের কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, তারা তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে কুর্দি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে কিছু শর্তারোপ করেছে। যা তেল রপ্তানিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত দুটি পথে তেল রপ্তানি করে ইরাক।

তার মধ্যে একটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় পাইপলাইন বা বাসরাহ টার্মিনাল। যা দিয়ে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে তেল পাঠানো হয়। আন্যটি উত্তরাঞ্চলীয় পাইপলাইন। এই লাইনটি কুর্দিস্তান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তুরস্কের চেইহান বন্দরে পর্যন্ত।

ইরাকের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কুর্দি অঞ্চলের পাইপলাইন ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করতে সক্ষম এবং এই প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। 

পাশাপাশি আগে যেসব ক্ষেত্র থেকে তেল রপ্তানি হতো, সেগুলোও চালু রাখা দহবে। ফলে ওই পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম বলেও জানায় মন্ত্রনালয়।

তবে কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনই তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে রাজি নয়। এ বিষয়ে তারা কয়েকটি শর্ত দিয়েছে।

 যেগুলো সরাসরি তেল রপ্তানির বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় বলেছে, কুর্দি প্রশাসনের উত্থাপিত শর্তগুলো পরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতির মুখে না ফেলতে কুর্দি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY