লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স
ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, মাঠ বদলাতে পারে, কিন্তু তার ছন্দ বদলায় না। নতুন স্টেডিয়াম, নতুন আবহ, কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।
রবিবার সকালে ইন্টার মায়ামির নতুন স্থায়ী ভেন্যু ন্যূ স্টেডিয়ামে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠলেন মেসি। অস্টিন এফসির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করে তিনি হয়ে গেলেন এই স্টেডিয়ামের প্রথম গোলদাতা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না মায়ামির জন্য। মাত্র ৬ মিনিটেই গিলহার্মে বিরোর হেডে এগিয়ে যায় অস্টিন। কিন্তু চাপের মুহূর্তেই নিজের মহিমা দেখান মেসি। ৯ম মিনিটে ইয়ান ফ্রের নিখুঁত ক্রস থেকে হেড করে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।
এই গোল শুধু সমতা ফেরায়নি, তৈরি করেছে ইতিহাসও। নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম গোল করে নিজের নাম লিখে ফেললেন মেসি, যা ভবিষ্যতে এই ভেন্যুর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম যেন উৎসবে ফেটে পড়ে। ২৬ হাজারেরও বেশি দর্শকের গর্জন, আর গোলাপি ধোঁয়ার আবেশে নতুন এই ভেন্যু পেয়ে যায় এক অনন্য আবহ।
মেসির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইতিমধ্যেই স্টেডিয়ামে ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ উন্মোচন করা হয়েছে, যা জীবিত একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিরল সম্মান। এটি তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।
৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটিই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ গন্তব্য।
বার্সেলোনা ও পিএসজিতে সফল অধ্যায় শেষে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নতুন গল্প লিখছেন মেসি, আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো নিজের নতুন ঘরে।
এই স্টেডিয়াম শুধু ইন্টার মায়ামির নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রতীক। ক্লাবটির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যামের স্বপ্নেরই বাস্তব রূপ এই আধুনিক ভেন্যু।
সব মিলিয়ে, নতুন ঘরে প্রথম ম্যাচেই গোল করে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখলেন মেসি। সময় এগিয়ে চলে, মাঠ বদলায়, কিন্তু মেসির জাদু যেন চিরন্তনই থেকে যায়।











































