বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যয় হ্রাস করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গাড়ি কেনা, গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহার, সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাস করে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাস করে পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত-
১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৪. সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হাস করতে হবে।
৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।
৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৮. আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।
এই পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হবে জানিয়ে গত ৯ এপ্রিল সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সম্বলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ব্যয় সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠকে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো, দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা বেধে দেওয়াসহ সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এক গুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।









































