বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে
গোয়ার ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুশীলন শেষে অন্যরা যখন টিম বাসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও মাঠে ব্যস্ত আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পেনাল্টি শটে একের পর এক পরাস্ত করতে দেখা গেল সুইডিশ প্রবাসী এই স্ট্রাইকারকে।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে মর্যাদার ম্যাচ সামনে রেখে আজ মিনিট দশেক অতিরিক্ত অনুশীলন করেছেন আনিকা। এতেই বোঝা যায়, ম্যাচটা নিয়ে কতটা সিরিয়াস তিনি! কোচ পিটার বাটলারও তার এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করলেন, ‘আমি তাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকি। এটাও বলেছি, উন্নতি করতে হলে এটার (অতিরিক্ত পরিশ্রম) বিকল্প নেই। শুধু তার ক্ষেত্রে নয়, সবার জন্য।’
উইঙ্গার হিসেবে গত মার্চে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এসে নতুন ভূমিকায় আনিকা। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন গোল। শারীরিকভাবে শক্তিশালী এই ফুটবলার দলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বলে জানালেন বাটলার, ‘আমরা এখন ভিন্ন একটি দল। আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলি।আমাদের দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় উঠে এসেছে। তবে আমি কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই না। আমার মনে হয় আমাদের দলে অনেক ম্যাচজয়ী ফুটবলার আছে। আনিকা আমাদের খেলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।’
ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, উমেহ্লা মারমাদের সঙ্গে আনিকা থাকায় আক্রমণভাগেও শক্তি বেড়েছে বাংলাদেশের।অন্যদিকে ভারতের আক্রমণভাগেও আছে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো ফুটবলার। তবে এই ম্যাচে স্বাগতিকরা পাচ্ছে না দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মনীষা কল্যাণকে। পেরুর ক্লাব আলিয়াঞ্জা লিমার হয়ে খেলা এই ফুটবলার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ১ জুন।
সেদিনই শুরু হবে ফিফা উইন্ডো। উইন্ডোর আগেই সাফ শুরু হয়ে যাওয়ায় মনীষাকে ছাড়েনি তার ক্লাব। এএফসি এশিয়ান কাপে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ফ্রি কিকে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন তিনি। ইউরোপের ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনীষার না থাকা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি দেবে বাংলাদেশকে।
তবে বাকি যারা আছেন—সৌম্য গুগুলাথ, কাভিয়া পাক্কিরিসামি, গ্রাস দাংমেইরাও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।
এ নিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘ভারতের আক্রমণ যতই শক্তিশালী হোক, আমাদেরও আক্রমণভাগ আছে। প্রয়োজন হলে আমরা ভালোভাবে রক্ষণ সামলাতে পারি, প্রয়োজন হলে লড়াই করে রক্ষণ করতে পারি। আমরা প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে উঠতে পারি, সুযোগ তৈরি করতে পারি—সেটা আমরা আগেও দেখিয়েছি। এখন মূল বিষয় হলো সেই সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দেওয়া।’











































