অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপদ ভবিষ্যৎ আশা জাগিয়েছে দুই নারী ইরানি ফুটবলারের

সংগৃহীত ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার বলেছেন, দেশটি তাদের ‘এমন এক ভবিষ্যতের আশা দিয়েছে যেখানে আমরা নিরাপদে বসবাস ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারব।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আতেফেহ রামেজানিসদেহ এবং ফাতেমেহ পাসান্দিদেহসহ ইরানি দলের সাতজন সদস্যকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়ান কাপ চলাকালীন প্রাথমিকভাবে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকি পাঁচজন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেশে ফিরে যায়।

ঘটনাটি ঘটে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর উদ্বোধনী ম্যাচে নারী ফুটবলাররা ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানায়।

এতে ইরান সরকার তাদের ওপর ভয়াবহ ব্যবস্থা নিতে পারার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

তাতে এক অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তাদের ক্যারিয়ার। দীর্ঘ এক অন্ধকার সময়ের পর প্রথম প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয় দুই নারী ফুটবলার। বিবৃতিতে সমর্থকদের সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করেছেন রামেজানিসদেহ এবং পাসান্দিদেহ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সময়ে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সাথে স্বাস্থ্য এবং নতুন জীবন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা।

‌’অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের আন্তরিকতা ও উদারতায় আমরা অভিভূত। এই পরিবর্তনের সময়ে আপনাদের সমর্থন আমাদের সাহস জুগিয়েছে এবং একাকীত্ব কমাতে সাহায্য করেছে’ আরও বলেন তারা।

দুই ফুটবলার অষ্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা করায় কৃতজ্ঞ’। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিবেদিত কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান তারা।  

অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগ ব্রিসবেন রোয়ারের নারী দল সঙ্গে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ছবিতে দেখা যাওয়া রামেজানিসদেহ ও পাসান্দিদেহকে। এসময় তারা বলেন, আশা করি অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারব।

চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলায় যুদ্ধ শুরু করে।

এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সেই প্রেক্ষাপটেই ইরানি নারী ফুটবল দলকে ঘিরে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।

LEAVE A REPLY