পরাজয়ের পরও ক্ষমতায় থাকতে চান স্টারমার

রয়টার্স ছবি

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে লেবার পার্টির পরাজয়ের পরও পদে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই ঘোষণার পরপরই বেড়েছে স্টার্লিংয়ের দাম। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে পাউন্ড স্টার্লিং ও ইউরো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির ইঙ্গিত মিললেও তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচনে খারাপ ফলাফলকে কঠিন ও হতাশাজনক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘খুব কঠিন রাত গেছে।’ 

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশের জন্য স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে দাবি করে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং লড়াই চালিয়ে যাবেন। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন অঞ্চলে লেবার পার্টি উল্লেখযোগ্যভাবে জনসমর্থন হারিয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই ফলাফল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে শুক্রবার সকালে পাউন্ডের দর ০.২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১.৩৫৮৩ ডলারে। একই সময়ে ইউরোর বিপরীতে পাউন্ড ০.০৮ শতাংশ শক্তিশালী হয় এবং এক ইউরোর মূল্য দাঁড়ায় ৮৬.৪৫ পেন্সে।

মনেক্স ইউরোপের ম্যাক্রো গবেষণা বিভাগের প্রধান নিক রিস বলেন, স্টারমারের বিকল্প হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তাদের কেউই স্টার্লিংয়ের জন্য ইতিবাচক হবেন না।

তিনি বলেন, ‘অ্যাঞ্জেলা রেইনার বা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মতো বামঘেঁষা নেতারা ক্ষমতায় এলে বন্ডবাজার উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে।’

এদিকে ব্রিটিশ সরকারি বন্ড বা গিল্টের দাম সামান্য বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি গিল্টের সুদহার এক বেসিস পয়েন্ট কমে ৪.৯৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার মার্কিন ডলার সূচক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফল আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান জেফারিজের অর্থনীতিবিদ মোহিত কুমার বলেন, ‘স্টারমারের ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে। তবে তার বিপরীতে সম্ভাব্য যেকোনো নেতা বামপন্থী অবস্থানের হওয়ায় তা আর্থিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কাউন্সিল আসনে ভোটকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। ভোটারদের রায়ে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতারা।

অন্যদিকে কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের আশা করছে রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিন পার্টি। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

LEAVE A REPLY