‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই নাজমুল হোসেন শান্ত। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আজ তো রেকর্ডও গড়লেন বাঁহাতি ব্যাটার।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি শান্তর। নেতা শান্তর নামের পাশে এখন ৫ সেঞ্চুরি।
মিরপুরের সেঞ্চুরিতে পেছনে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমকে। অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে ৪ সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। দুজনের পরেই আছেন ৩ সেঞ্চুরি করা মমিনুল হক।
অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চম হলেও টেস্ট ক্যারিয়ারে মিরপুরের সেঞ্চুরি শান্তর ৯ম।
তার সামনে আর তিনজন আছেন। ১০ সেঞ্চুরি করে তার উপরে আছেন সাবেক ওপেনার ও বর্তমানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আর ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে সবার উপরে আছেন মুশফিক ও মমিনুল।
শান্তর সেঞ্চুরিটা আজ কঠিন সময়ে এসেছে।একজন নেতার দায়িত্বই পালন করেছেন তিনি। দলীয় ৩১ রানে যখন দুই ওপেনারকে হারিয়ে বাংলাদেশ ধুঁকছিল ঠিক তখনই পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পড়লেন বাঁহাতি ব্যাটার। মমিনুলকে সঙ্গী করে তৃতীয় উইকেটে ১৭০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন।
দুর্দান্ত জুটিটা গড়ার পথে তিন অংকের ঘর স্পর্শ করেন শান্ত। সেটিও ছিল দেখার মতো।
৫৩তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের করা প্রথম বলে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। আর সেঞ্চুরির উদযাপন নিজের চিরাচরিত স্টাইলে সাড়লেন। হেলমেট খুলে এক হাতে নেওয়ার পর শূণ্যে লাফ দিয়ে বাঘের মতো গর্জন করে। তারপর মাটিতে পা দিয়ে হেলমেটে চুমু এঁকে উদযাপনের শেষটা টানলেন।
সেঞ্চুরি করার পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি শান্ত। ঠিক পরের বলেই আউট হন তিনি। বল তার পায়ে লাগলে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ রিভিউ নিলে ২৭ বছর বয়সী ব্যাটারকে ঠিকই ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে হয়। তাতে ১০১ রানে থেমে যায় তার ইনিংসটি। ১৩০ বলের ইনিংসটি সাজান ১২ চার ও ২ ছক্কায়।
ঘরের ফেরার আগে দলকে দারুণ ভিত দিয়ে যান শান্ত। সেই ভিত এখন আরও মজবুত করছেন মমিনুল-মুশফিক। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৫৯। সেঞ্চুরির পথে আছেন মমিনুল, তার রান ৮৭। অপরদিকে ২১ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিক।









































