হরমুজে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

সংগৃহীত ছবি

গত সপ্তাহে বোমা হামলা স্থগিত করার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ওয়াশিংটন।একই সময়ে হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের দেওয়া প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের কয়েকটি ঘাঁটিতে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। 

এর আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ দিনের টানা বোমা হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সামরিক অভিযান।মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে তখন ওই অভিযান বন্ধ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করল।

ইরাকের শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে।দেশটি একদিকে ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের সঙ্গেই সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজ এবং জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জর্দানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করা তিনটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

এদিকে হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ওমানের সঙ্গে ৫০-৫০ ভিত্তিতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করা ইরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান চায়, প্রণালির প্রবেশমুখে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং বহির্গমনপথে আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে।

মার্কিন প্রশাসন এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানি উপকূল এড়িয়ে ওমানের উপকূলসংলগ্ন পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপের’ জবাব দেওয়া হবে।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে আবার ৮৭ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও ট্রাম্পের বোমা হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর তা কিছুটা কমে এসেছিল।

LEAVE A REPLY