প্ল্যাকার্ড হাতে টটেনহামের দুই নারী সমর্থক। ছবি: ফেসবুক
একটি গোলের জন্য কতটা অপেক্ষা করতে পারে একটি ফুটবল দল? টটেনহাম হটস্পারের সমর্থকরা এখন যেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে চার ম্যাচ খেলে ফেলেছে টটেনহাম; কিন্তু গোলসংখ্যা এখনো শূন্য।সর্বশেষ কাল রাতে (১২ সেপ্টেম্বর) এভারটনের সঙ্গে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্রয়ের পর হতাশা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে দুই নারী সমর্থকের হাতে দেখা যায় একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, ‘প্লিজ, একটা গোল করো’। মাঠ ছাড়ার সময় টটেনহামের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে একই আকুতি ছিল আরো অনেক সমর্থকের।কেউ কেউ দুয়োও দিয়েছেন।
প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচে গোল না পাওয়ার ঘটনা টটেনহামের ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে লিগের প্রথম তিন ম্যাচে গোল করতে পারেনি উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। এবারের শুরুটা তাই তাদের জন্য নতুন এক বিব্রতকর রেকর্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ দারুণ কিছুর আশায় এবারের দল গড়তে টটেনহাম খরচ করেছে বিপুল অর্থ। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে তাদের ব্যয় ৩৫ কোটি পাউন্ডের বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। এত টাকা ঢেলেও আক্রমণে এমন দুর্দশা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।
টটেনহামের এই দুরবস্থা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েনি পিৎজা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডমিনোজও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা লিখেছে, প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের সর্বশেষ গোলের পর থেকে তারা ৪৮ কোটি ৯২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭৮টি পিৎজা সরবরাহ করেছে।
সেই পোস্টে একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘৫০ কোটি পিৎজা সরবরাহ না করা পর্যন্ত টটেনহাম গোল করবে না।’

দলের এমন অবস্থায় কোচ রবার্তো দে জেরবি হতাশ হলেও আতঙ্কিত নন। এভারটনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর জেরবি বলেছেন, ‘আমাদের মূল কাজ হলো এই অচলাবস্থা কাটানো। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই আমরা গোল পাব এবং ম্যাচ জিতব।’
দে জেরবি আরো বলেছেন, ‘ফলাফলের জন্য আমি দুঃখিত, বিশেষ করে সমর্থকদের জন্য। তবে একটি দলকে তৈরি করতে সময় লাগে। উন্নতি রাতারাতি আসে না।’
টটেনহামের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল? প্রিমিয়ার লিগে দলটির পরের ম্যাচ আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর), প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা।











































